গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে - GBnews24
Beauty Tips
Add Post
Games
8 1 8 Best strategy game

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে

দেখতে দেখতে এসেই গেল গরমকাল। এই গরমে সব চাইতে কঠিন কাজটি হলো ত্বকের সৌন্দর্য ঠিকঠাক মতো ধরে রাখা। রোদের প্রচণ্ড তাপ, ধুলোবালি এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই সময় চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু যদি নিয়মিত প্রতিদিন সঠিকভাবে যত্ন নেয়া হয় তবে এই গরমেও ধরে রাখা যাবে চেহারার সৌন্দর্য। চলুন তবে দেখে নেই চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখার কিছু উপায়।

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে-

 

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে

উজ্জলতা বৃদ্ধিতে পেঁপের ব্যবহার

রোদের তীব্রতায় ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যায় এবং ঘামের ওপর ধুলোবালি জমে ত্বক কালো দেখায়।ত্বকের হারানো উজ্জলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করুন পেঁপে। পাকা পেঁপে স্লাইস করে কেটে নিন। এরপর এই পেঁপে মুখ, হাত, পা, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকে ভালো করে ঘষে নিন। শুকিয়ে উঠলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ব্যবহারে বাড়বে ত্বকের উজ্জলতা।

ত্বককে সুস্থ রাখতে ফেইস মাস্ক

২ টেবিল চামচ টকদই এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মুখ, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকের উপর লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের গরমকাল জনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ত্বককে ময়েসচারাইজ করতে প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার

গরমকালে আবহাওয়ায় অনেক তাপ থাকে বলে ত্বকের উপরিভাগের আদ্রর্তা একেবারেই চলে যায়। এতে দেখতে বিশ্রী লাগে। এই সমস্যা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে, ২ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পড়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকবে এবং চেহারা থাকবে সুন্দর।

Related Tips

See more

চুল পাকা রোধে করণীয়
চুল পাকা রোধে করণীয়

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পাকা স্বাভাবিক কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগে সাধারণত ২০ বছর বয়সের আগে চুল পাকা বর্তমানে একটি অতি পরিচিত সমস্যা। বর্তমান বিশ্বে প্রায় অর্ধেক মানুষই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। চুলের রং কি হবে তা নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ হরমোন মেলানিনের উপর। এই মেলানিনের অভাব হলে চুল পাকতে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের মেলানিন তৈরির ক্ষমতা কমে আসে বলেই  বুড়ো বয়সে চুল পাকে।

 

গবেষকদের মতে, অকালে চুল পাকার তেমন কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে আমাদের শরীরে জিন বা বংশগতির প্রভাবে অকালে চুল পাকতে পারে। এছাড়াও ভিটামিন বি-১২ অভাবে পিটুইটারি হরমোন অথবা থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকলে কম বয়সে চুল পাকে। পাশাপাশি খাবারদাবারের ভেজাল ও পরিবেশগত দূষণসহ অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান বা জীবন যাপনের নানা সমস্যাও এতে যুক্ত। চিকিত্সাশাস্ত্রে চুল পাকার তেমন কোনো র্কাযকরি চিকিত্সা নেই। তবে কিছু সচেতনতা চুল পাকা রোধে সাহায্য করে। ঘরে বসে পাকা চুলের সমস্যা সমাধানে আমলকীর জুড়ি নেই। ভিটামিন সি আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলকী তারুণ্য ধরে রাখতে খুবই কার্যকর। নিয়মিত আমলকী খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে সঙ্গে চুল পাকা রোধ করতেও সাহায্য করে।

 

এছাড়াও চুল ভাল রাখতে নিয়মিত ভাল ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু (যেটি আপনার চুলে স্যুট করে) দিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন জেল, কালার, ক্রিম, স্প্রে ও সিরাম ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া যখন চুল পাকতে শুরু করবে তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ব্রণের দাগ দূর করার মাস্ক
ব্রণের দাগ দূর করার মাস্ক

ব্রণের সমস্যায় কম-বেশি সবাই ভুগে থাকে। অনেক সময় ব্রণ কমে গেলেও দাগগুলো ঠিকই থেকে যায়। জেনে নিন ব্রণের দাগ দূর করার জন্য কয়েকটি মাস্ক। 

 

* একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ কফি পাউডার এবং হাফ টেবিল চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে নিয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিয়ে হবে। ১৫ মিনিট পর স্ক্রাবিং  করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে হবে। কফি পাউডার আমাদের মুখের মরা চামড়া দূর করে এবং ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। মধুতে পিম্পলের ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করে। এছাড়াও মধুতে ন্যাচারাল ব্লিচিং এজেন্ট রয়েছে, যা ব্রণের দাগ দূর করে।

 

* হাফ টেবিল চামচ সুইট আমন্ড অয়েল এবং লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে তা মুখের ত্বকে লাগিয়ে নিয়ে হবে। ৩০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সুইট আমন্ড অয়েল স্কিনের ড্রাইনেস ও ব্রণের দাগ দূর করে ভ লেবুর রসে স্কিন লাইটেনিং এজেন্ট রয়েছে, যা ব্রণের দাগকে হালকা করতে সাহায্য করে।

 

* একটি বাটিতে ১ চা চামচ চন্দন পাউডার, হাফ চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে নিন। আপনার স্কিন ড্রাই হলে গ্লিসারিন যোগ করতে পারেন। এই মিশ্রণটি ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং ধুয়ে ফেলুন। চন্দনে রয়েছে অ্যান্টি মাইক্রোভাল যা ব্রণের দাগ দূর করে। এটি স্কিনকে উজ্জ্বল করে তোলে।  গোলাপজল স্কিনের পি এইচ লেভেলকে ব্যালেন্স করে।

 

* একটি টমেটো নিয়ে এর পাল্প বের করে নিন। এর সাথে হাফ চা চামচ লেবুর রস এবং মধু যোগ করুন। এই মিশ্রণটি ব্রণের দাগের উপর লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে ধুয়ে ফেলুন।

 

এই মাস্কগুলো সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করুন। মাস্কগুলো ব্যবহারের আগে মুখ অবশ্যই পরিষ্কার করে নেবেন। মাস্কগুলো ব্যবহারের পরে টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

সহজেই রূপচর্চা করুন লেবু দিয়ে
সহজেই রূপচর্চা করুন লেবু দিয়ে

প্রতিদিনই চলে সুগন্ধি লেবুর ব্যবহার। খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে নিতে লেবুর তুলনা হয় না। ভিটামিন সি যুক্ত এই ফলটি আমাদের শরীরের জন্যও খুবই উপকারী।

 

রূপচর্চাতেও লেবুর রয়েছে সমান দক্ষতা, শুধু জানতে হবে উপযুক্ত ব্যবহার। দৈনন্দিন জীবন যাপনে বিপর্যস্ত হতে পারে আপনার সৌন্দর্য। তাই জেনে নিন লেবুর ছোঁয়ায় রূপের যত্ন নিতে কিছু কার্যকরী ব্যবহার।

ত্বকের উজ্জ্বলতা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে লেবু খুবই উপযোগী। একচির লেবুতে একটু চিনি ছিটিয়ে ত্বকে আলতো করে ঘষতে থাকুন। এটি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করবে। লেবুর ব্লিচিং ইফেক্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে। তারপর কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললেই হল।

নখের যত্ন

দীর্ঘদিন নখে নেলপলিশ লাগিয়ে রাখলে বা রান্নার কারণে হলুদ-তেল লেগে নখে হলদেটে ভাব চলে আসে। অনেক সময় কষযুক্ত ফল বা সবজি কাটার জন্যও নখে দাগ পড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে লেবুর খোসা দিয়ে নখ ভালো করে ঘষে নিন, নখ হয়ে উঠবে ঝকঝকে পরিষ্কার।

ত্বকের কালো দাগ দূর

লেবু দিয়ে ব্রণ, র‌্যাশ বা ব্লাক হেডসের কালো দাগ কিংবা যেকোনো ধরণের কালো দাগ দূর করতে পারেন খুবই সহজে। সেজন্য প্রতি রাতে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে দাগের ওপর লেবুর খোসা ঘষে নিন। এভাবে ১ ঘণ্টা রেখে মুখ ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। কয়েকদিনের ব্যবহারে দ্রুতই দাগ দূর হয়ে যাবে।

 

প্রাকৃতিক টোনার

লেবুকে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার মুখের ওপর লেবুর খোসা আলতো ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যস, দারুণ কাজে দেবে।

ব্রণ দূর

লেবুর খোসা খুবই ভালো ব্রণ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। লেবুর খোসায় মধু লাগিয়ে তা দিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলেই ভালো উপকার পাওয়া সম্ভব।

কনুই ও হাঁটুর কালচে দাগ

অনেকেরই কনুই এবং হাঁটুতে কালচে দাগ থাকে এবং চামড়া হয়ে যায় শক্ত। এই সমস্যা সমাধানে প্রতিদিন লেবুর ঘষে অপেক্ষা করুন এক ঘণ্টা। কিছুদিনের মধ্যেই দাগ দূর হবে এবং নরম কোমল হয় উঠবে চামড়ার শক্ত ভাব।

পায়ের যত্নে

প্রতিদিনই একটু পায়ের যত্ন না নিলে অবস্থা শোচনীয় হতে থাকে। তাই প্রতিদিন বেশি কিছু না করতে পারলেও এক টুকরো লেবু উষ্ণ পানিতে চিপে নিন।

এবার পা ডুবিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এবার স্ক্রাবার দিয়ে ঘষে পা পরিষ্কার করে নিলেই হল। তারপর পছন্দমতো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

সতর্কতা

  • অনেকের ত্বকে লেবুতে অ্যালার্জি হয়। তাই ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন লেবুতে আপনার অ্যালার্জি আছে কি না।
  • ত্বকে লেবুর রস দিয়ে সূর্যের আলোতে গেলে ত্বক পুড়ে যায়। ত্বকের সুরক্ষায় লেবু ব্যবহার করবেন রাতের বেলা।

ঘরেই তৈরি করুন হাত ও পায়ের স্ক্রাব
ঘরেই তৈরি করুন হাত ও পায়ের স্ক্রাব

আপনার ত্বককে তারুণ্য দীপ্ত রাখতে চাইলে ক্লিঞ্জিং ও ময়শ্চারাইজিং এর পাশাপাশি স্ক্রাবিং ও করতে হবে। যদি আপনার ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয় তবুও আপনার হাল্কা স্ক্রাব করা প্রয়োজন। এক্সফলিয়েট করলে শরিরের মৃত চামড়া দূর হয়ে যায়,ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক নতুনের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠে।

 

শুধুমাত্র মুখে না হাত ও পায়ের স্ক্রাব করাটাও খুব জরুরী। কারণ শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে হাত ও পা দ্বারাই আমরা বেশির ভাগ কাজ করে থাকি। তাই হাত এবং পায়ের ও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। আপনার রান্নাঘরের কিছু উপাদান দিয়েই এগুলো তৈরি করা যায়। এগুলোর ব্যবহারে আপনার হাত ও পায়ের ত্বক হারিয়ে যাওয়া উজ্জলতা ফিরে পাবে এবং ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে কোমল করে তুলবে।

আসুন এবার যেনে নেই স্ক্রাব কিভাবে তৈরি করবো তার উপায়-

১। লেবু ও লবণ এর স্ক্রাব

লবণ এক্সফলিয়েশন এর একটি সবচেয়ে ভালো উপাদান।কিছু লবণ হাতের উল্টো পিঠে ও পায়ের পাতার উপর ছিটিয়ে দিতে হবে, একটা লেবুর অর্ধেকটা কেটে নিয়ে আস্তে আস্তে ছিটানো লবণের উপর ঘষতে হবে।লেবুর রস যেন হাত ও পা কে পুরোপুরি ভিজিয়ে দেয়, কিছুক্ষণ পর মুছে ফেললেই হবে।এতে হাত ও পায়ের মরা চামড়া দূর হবে এবং উজ্জলতা আনবে।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

২। আলুর রস এর স্ক্রাব

সংবেদনশীল ত্বক যাদের তাদের জন্য আলুর রস সবচেয়ে ভালো স্ক্রাব।আলুর কয়েকটি টুকরো থেঁতলে নিয়ে ভালো করে রস বের করে নিতে হবে, তারপর সেই রস হাত ও পায়ে ভালো ভাবে মাখিয়ে নিয়ে জোরে জোরে ঘষতে হবে।২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩। অ্যালোভেরা এর স্ক্রাব

অ্যালোভেরা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ভালো একটি স্ক্রাব। অ্যালোভেরার একটি পাতা থেকে ভেতরের স্বচ্ছ জেল বের করে হাত ও পায়ে মাখিয়ে নিতে হবে। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে হাত ও পায়ের ত্বক কোমল ও ঊজ্জল হবে।

৪। কমলার স্ক্রাব

একটি বলের মধ্যে শুকনো কমলার খোসার গুঁড়ো নিতে হবে এর মধ্যে এক কাপের চার ভাগের এক অংশ পরিমাণ দুধ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে।এবার মিশ্রণটি হাত ও পায়ে মাখিয়ে ২০ মিনিট রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৫। দুধের স্ক্রাব

আপনি গোসল করতে যাওয়ার আগে কাঁচা দুধ আপনার হাত ও পায়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন।কিছুক্ষণ পর যখন আপনার ত্বক এই দুধ শুষে নিবে আপনি নিজেই দেখতে পাবেন কিভাবে মরা চামড়া উঠে  আসছে।

এই ৮টি উপাদান কখনো চেহারায় মাখবেন না
এই ৮টি উপাদান কখনো চেহারায় মাখবেন না

সুন্দর ত্বক সবারই কাম্য। এ জন্য অনেকেই ত্বকে নানা কিছু মাখেন। কসমেটিক থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক উপাদান সবকিছুই থাকে এর মধ্যে। তবে কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলোর ব্যবহারে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। আর এগুলো ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি ফুড টিম প্রকাশ করেছে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

১. ভ্যাসলিন

ভ্যাসলিন সারা বিশ্বেই ত্বক আর্দ্র করার একটি উৎকৃষ্ট উপাদান। এটি শুষ্ক ত্বক প্রতিরোধে উপকারী। বিভিন্ন কাটাছেঁড়া বা পোকামাকড়ের কামড়ে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে ব্রণ হলে কখনোই ভ্যাসলিন মুখে লাগাবেন না। কারণ, এটি ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. বডি লোশন

বডি লোশন তৈরি করা হয় শরীরের জন্য, মুখের জন্য নয়। শরীরের ত্বক মুখের ত্বকের তুলনায় পুরু হয়। আর বডি লোশনকেও সে অনুযায়ী তৈরি করা হয়।

৩. গরম পানি

গরম পানির গোসল বা বাষ্পে গোসল অনেকেরই পছন্দ হতে পারে। তবে গরম পানি মুখের ত্বকে লাগানো ঠিক নয়। এটি মুখের ত্বককে শুষ্ক করে তোলে।

  (এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও বা স্বাস্থ্য বিষয় ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি - ঠিকানা - YouTube.com/HealthBarta)

৪. টুথপেস্ট

অনেকেই ব্রণ শুকিয়ে ফেলার জন্য টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। তবে এ কাজ কখনোই করতে যাবেন না। টুথপেস্ট মুখের ত্বকে অস্বস্তি বাড়ায় এবং জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন : কেমিক্যাল বার্ন, স্কার্স ইত্যাদি।

৫. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড

এই শক্তিশালী উপাদানটি কেটে গেলে ও পুড়ে গেলে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করে। তবে এটি ব্রণের চিকিৎসায় কখনোই ভালো উপাদান নয়। এটি প্রদাহ ও অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।

৬. লেবু

লেবুর অনেক স্বাস্থ্যকর গুণ রয়েছে। তবে এটি মুখের ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এটি ত্বকে ব্যবহার করবেন না।

৭. বেকিং সোডা

অনেকেই ভাবেন, বেকিং সোডার ব্যবহার ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে ভালো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়। তাই মুখে বেকিং সোডা ব্যবহার না করার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা।

৮. চিনি

অনেকে ত্বকের মৃতকোষ দূর করার জন্য চিনি ব্যবহার করেন। তবে এটি লাভের বদলে ক্ষতি বেশি করে। এটি ত্বকের নমনীয়তা কমিয়ে দেয়। তাই মুখে এই উপাদান ব্যবহার থেকেও বিরত থাকুন। আর খুব প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক
ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক

ত্বকে একটি কালো দাগ পড়লে সেটি দূর করার জন্য সকলেই সর্বোচেষ্টা করে থাকি। নামী দামী কত রকমের ক্রিম, বিউটি প্রোডাক্ট, ফেসিয়াল কত কিছুই না করা হয়ে থাকে। অনেকেই ত্বকের যত্নে ফলের তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করে থাকেন। ফুল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করেছেন কি? হ্যাঁ, ফুলের তৈরি ফেসপ্যাক। গোলাপ, লোটাস, ল্যাভেন্ডার সহ আরও কিছু ফুলে প্রাকৃতিক তেল এবং পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে। আসুন, এমনই কিছু ফুলের ফেসপ্যাক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক-

 

ত্বকের সমস্যায় ফুলের ফেসপ্যাক

১। গোলাপের ফেসপ্যাক

সৌর্ন্দয চর্চায় গোলাপ বেশ জনপ্রিয় একটি উপাদান। গোলাপের পাপড়ি এবং এর নির্যাস ফেসিয়ালে ব্যবহার করা হয়। এক মুঠো গোলাপের পাপড়ি আধা কাপ পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এই পাপড়িগুলো পেস্ট করে নিন। এর সাথে এক টেবিল চামচ ওটমিল গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। গোলাপের পাপড়ি সিদ্ধ করা পানি ফেলে দিবেন না,এটি সংরক্ষণ করুন। গোলাপ জল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

২। গাঁদাফুলের ফেসপ্যাক

২-৩ টি গাঁদাফুলের পাপড়ি গুঁড়ো করে দুধের সাথে মিশিয়ে নিন। তারপর বেটে পেস্ট তৈরি করুন এর সাথে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো, টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টকদই এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ অথবা দুধের সর মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকে তাৎক্ষনিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এর সাথে ত্বকের দাগ দূর করে দেয়।

৩। লোটাস ফেসপ্যাক

একটি লোটাস বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। এর সাথে দুধ, চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই পেস্টটি মুখ এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। লোটাস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বকের ভিতর থেকে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। শুধু তাই নয় ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করে থাকে।

৪। জেসমিন ফেসপ্যাক

জেসমিনের পাপড়ি সিদ্ধ করে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ত্বকে সরাসরি লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া জেসমিন ফুলের পাপড়ি এবং অন্যান্য ফুলের পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে পারেন। এর সাথে এসেন্সিয়াল অইয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন কয়েক ফোঁটা। জেসমিন রোদেপোড়া দাগ দূর করে দিতে সাহায্য করে।

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে
গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে

দেখতে দেখতে এসেই গেল গরমকাল। এই গরমে সব চাইতে কঠিন কাজটি হলো ত্বকের সৌন্দর্য ঠিকঠাক মতো ধরে রাখা। রোদের প্রচণ্ড তাপ, ধুলোবালি এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই সময় চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু যদি নিয়মিত প্রতিদিন সঠিকভাবে যত্ন নেয়া হয় তবে এই গরমেও ধরে রাখা যাবে চেহারার সৌন্দর্য। চলুন তবে দেখে নেই চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখার কিছু উপায়।

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে-

 

গরমে চেহারা সুন্দর রাখতে

উজ্জলতা বৃদ্ধিতে পেঁপের ব্যবহার

রোদের তীব্রতায় ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যায় এবং ঘামের ওপর ধুলোবালি জমে ত্বক কালো দেখায়।ত্বকের হারানো উজ্জলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করুন পেঁপে। পাকা পেঁপে স্লাইস করে কেটে নিন। এরপর এই পেঁপে মুখ, হাত, পা, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকে ভালো করে ঘষে নিন। শুকিয়ে উঠলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ব্যবহারে বাড়বে ত্বকের উজ্জলতা।

ত্বককে সুস্থ রাখতে ফেইস মাস্ক

২ টেবিল চামচ টকদই এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মুখ, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকের উপর লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের গরমকাল জনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ত্বককে ময়েসচারাইজ করতে প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার

গরমকালে আবহাওয়ায় অনেক তাপ থাকে বলে ত্বকের উপরিভাগের আদ্রর্তা একেবারেই চলে যায়। এতে দেখতে বিশ্রী লাগে। এই সমস্যা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে, ২ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পড়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকবে এবং চেহারা থাকবে সুন্দর।

কোন ত্বকে কেমন সানস্ক্রিন উপযোগী
কোন ত্বকে কেমন সানস্ক্রিন উপযোগী

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কোনো সময়েই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিৎ নয়। রোদের তীব্রতা আমাদের ত্বকের ওপর ছাপ ফেলে খুব বিরুপভাবে। তাই আমাদের উচিত ত্বকের ধরণ অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যাবহার করা। আসুন আজ জেনে নেই কোন ধরনের ত্বকের জন্য কোন সানস্ক্রিন উপযোগী।

কোন ত্বকে কেমন সানস্ক্রিন উপযোগী-

 

কোন ত্বকে কেমন সানস্ক্রিন উপযোগী

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সাধারণ যে কোন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এতে ব্রণের উপদ্রব বাড়ে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অবশ্যই পানির মাত্রা বেশি অর্থাৎ ওয়াটার বেইজড সানস্ক্রিন বাছাই করা উচিৎ। এতে করে রোদ এবং ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। সানস্ক্রিনের এসপিএফ অবশ্যই ৩০ মাত্রার অধিক ব্যবহার করবেন।

শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বকের জন্য
শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বকের জন্যও আলাদা ধরণের সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। রুক্ষ ত্বকে সাধারণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে পরে। তাই রুক্ষ এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন বাছাই করতে হবে। একই সাথে এসপিএফ ৩০ মাত্রার অধিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সাধারণ ত্বকের জন্য
সাধারণ ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি বাছাবাছি করার প্রয়োজন নেই। কারণ সাধারণ ত্বকের ৩০ থেকে ৫০ এসপিএফ মাত্রার সানস্ক্রিন ভালোভাবেই কাজ করে। সাধারণ ত্বকের জন্য শুধুমাত্র ভালো ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিৎ। এতে করে ত্বক ঘেমে গেলেও সানস্ক্রিন ত্বকে থাকবে।

আদার ৫টি সৌন্দর্য উপকারিতা
আদার ৫টি সৌন্দর্য উপকারিতা

আদা আমাদের অতি পরিচিত একটি মশলার নাম। আদাকে মশলাই বলা চলে। আদা আমরা খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্যই বিশেষভাবে ব্যবহার করে থাকি। আদা কুচি বা আদা বাটা খাবারের স্বাদ বাড়ায়। আদা খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। আদা পেটের যে কোনও সমস্যা, সর্দি কাশি নিরাময়ে বেশ সহায়তা করে। কিন্তু আপনি জানেন কি, এতো সব কিছুর পাশাপাশি আদার রয়েছে বেশ কিছু সৌন্দর্য উপকারিতা? অনেকেই এই ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত নন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক চেনা আদার অচেনা কিছু সৌন্দর্য উপকারিতা।

আদার ৫টি সৌন্দর্য উপকারিতা-

 

আদার ৫টি সৌন্দর্য উপকারিতা

বয়সের ছাপ প্রতিরোধে আদা

আদার মধ্যে অ্যান্টিএইজিং উপাদান রয়েছে যা ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলতে বাধা প্রদান করে। এছারা আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে ও ত্বকের সতেজ ভাব ধরে রাখে। তাই প্রতিদিন সামান্য আদা কাচা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। চেহারায় বহুকাল বলিরেখা পড়বে না।

ত্বকের পোড়া অংশ নিরাময়ে আদা

মাঝে মধ্যেই কাজ করতে গিয়ে যে কেউ পুড়িয়ে ফেলতে পারেন হাত বা পায়ের বা দেহের যে কোনো অংশের ত্বক। ত্বকের এই পুড়ে যাওয়া নিরাময় করতে আদা বেশ সহায়ক। তাজা আদার রস পোড়া অংশে দিয়ে রাখুন। দেখবেন দ্রুত সেরে উঠবে। এছাড়া ত্বকের পোড়া অংশের দাগও দ্রুত চলে যাবে।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য আদা

প্রতিদিন খানিকটা আদা কেটে নিয়ে ত্বকে ভালো করে ঘষুন। সারাদিন শেসে বাসায় ফিরে খানিকটা আদা কেটে হাত, গলা ও মুখে ঘষুন। দেখবেন ত্বকের উপরিভাগের উজ্জ্বলতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। এতে করে ত্বকের দাগও চলে যাবে।

চুল পড়া প্রতিরোধ ও নতুন চুল জন্মাতে আদা

আদার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুলের গোড়া মজবুত করে তোলে। গোসলের ২৫-৩০ মিনিট আগে তাজা আদার রস পুরো চুলে তেলের মতো করে লাগিয়ে নিন। মাথার ত্বকে চুলের গোড়ার দিকে লাগাবেন। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহারে চুল পড়া ৭৫% পর্যন্ত কমে যাবে। আদার রস মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, এতে নতুন করে চুল জন্মায় ও চুল হয় স্বাস্থ্যউজ্জ্বল।

চুলের আগা ফাটা ও রুক্ষতা দূর করতে আদা

আদার তেল শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়ে নিয়ে তা দিয়ে চুল ধুলে চুলের আগা ফাটা এবং রুক্ষতা একেবারে দূর হয়ে যায়। এটি চুলের প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজারের মতো কাজ করে। আদার তেল মার্কেটে না পেলে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন খুব সহজে। ১ কাপ অলিভ অয়েলে বড় একটি আদার খণ্ড কুঁচি করে দিয়ে তেল গরম করুন। ফুটতে দেবেন না তেল। গরম হলে নামিয়ে নিন। এভাবে ৪/৫ বার করে তেল ঠাণ্ডা করে আদা তেল থেকে ছেঁকে নিয়ে তৈরি করে ফেলুন আদার তেল।

সুন্দর থাকতে যা করা উচিত
সুন্দর থাকতে যা করা উচিত

ঘুরে ফিরে বারবার আয়নার সামনে যাওয়া। উঁকি দিয়ে নিজের চেহারাকে দেখা নিখুঁতভাবে। কেনই বা ইচ্ছা করবে না, এমন সুন্দর কোমল চেহারা হলে সবাই-ই এমন কাজ করে থাকে। অথচ ঋতু বদলের ধাক্কায় কখন জানি চুরি হয়ে যাচ্ছে আপনার সৌন্দর্য।ব্যথিত মনে ক্ষোভ পুষে না রেখে করে নিন টুকিটাকি যত্ন-আত্মি। সামান্য চেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে রাখুন আপনার প্রস্ফুটিত সৌন্দর্য। আপনিও সুন্দর থাকুন সারাটিক্ষণ। তাই আসুন শিখে নেয়া যাক খুটিনাটি কিছু উপায়।

সুন্দর থাকতে যা করা উচিত-

 

সুন্দর থাকতে যা করা উচিত

সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে নয়

শীত কিংবা গরমে, ত্বকের সঠিক যত্নে সব ঋতুতেই চাই সানস্ক্রিন। সতেজ আর তারুণ্যদীপ্ত ত্বক ধরে রাখতে সানস্ক্রিন অত্যান্ত জরুরি। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ত্বকের ক্যানসার এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার প্রধান কারণ। তাই ত্বককে কোমল রাখতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে ভালো করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। মনে রাখবেন সুন্দর থাকার মোক্ষম অস্ত্র সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে যাওয়া নয়।

ত্বকের আদ্রতা রক্ষা

ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে প্রতিদিন শরীরে ময়েশ্চরাইজিং লোশন এবং মুখে ময়েশ্চার ক্রিম মাখুন। এতে আপনার শরীরের ত্বক ভালো থাকার পাশাপাশি বয়সের ছাপ পড়তে দেবে না। ত্বক টান টান থাকবে।

ত্বকের পরিচর্যা

প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ত্বকের উপযোগী বিভিন্ন মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকে বাড়তি ময়লা জমতে দেয়া ঠিক নয়। ত্বকের র‌্যাশ, ছোপ ছোপ দাগ, কালোভাব দূর করতে নিয়মিত সামান্য মাত্রায় পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে পারেন।

টুকটাক ব্যায়াম

আপনার বয়সের সঙ্গে হয়তো ওজন ঠিকই আছে। যতই ফাস্টফুড খান না কেন তবু ওজন বাড়ে না। কোথাও কোনো বাড়তি মেদ চর্বি নেই। ঠিক এই অবস্থায় আপনি ভাবছেন কষ্ট করে ব্যায়াম করার কি দরকার? হ্যা আপনাকেই বলছি, আপনার শারীরিক অবস্থা এভাবে হয়তো দু’বছর বা পাঁচ বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু একটা সময় পর না চাইলেও আপনার ওজন বাড়তে থাকবে। দেহের আকারে হয়ে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। তাই নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সামান্য ব্যায়ামের অভ্যাস রাখা জরুরি। ব্যায়াম দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দিয়ে ত্বকে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায়।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ ফল এবং সবজি খান। ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ এবং ‘ই’ খাওয়ার ওপর বেশি জোর দিন। এসব ভিটামিন ত্বকে অ্যান্টি-অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে ত্বককে ভালো রাখে।

পর্যাপ্ত পানি পান

নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন, যাতে পিপাসা না লাগে। এতে শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি ত্বকও ভালো থাকবে। ত্বকের কোষ সজীব থাকে।

শ্যাম্পুর পর ঝলমলে সুন্দর চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পুর পর ঝলমলে সুন্দর চুল পেতে চাইলে

সুন্দর ঝলমলে চুল পেতে কে না চান? রুক্ষ্ম আর বিবর্ণ চুল নিয়ে বিষণ্ণতায় ভোগেন অনেকেই। নানা রকম দামী শ্যাম্পু আর এটা ওটা ব্যবহার করেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত ফল। তবে কী করবেন? করতে হবে ছোট্ট একটি কাজ। বদলে যাবে চুলের চেহারা।

শ্যাম্পুর পর ঝলমলে সুন্দর চুল পেতে চাইলে-

 

শ্যাম্পুর পর ঝলমলে সুন্দর চুল পেতে চাইলে

চায়ের লিকার থেরাপি –
ঝলমলে চুলের জন্য দারুণ কাজ করে চায়ের লিকার। চুল যেমনি হোক না কেন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক- এই চায়ের লিকার মানিয়ে যাবে খুব সহজে।

এটা তৈরির জন্য দুই কাপ পানি নিন। তার মাঝে ৬ টেবিল চামচ ফ্রেশ চা পাতা দিন। এটাকে এখন অল্প আঁচে চুলায় ফুটতে দিন। ফুটে ফুটে লিকার ঘন হবে। এবং দুই কাপ পানি কমে এক কাপের কম হলে বুঝবেন যে রেডি। এখন এটাকে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে এই মিশ্রণ মাখুন। ৫ মিনিট পর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

ভিনেগারে চুলের চমক –
শ্যাম্পু করে ফেলছেন? এবার ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল। আধা কাপ ভিনেগার এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপর সেটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু করা চুল। ৫ মিনিট পর আবার একটু স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। শুকিয়ে নিলেই পাবেন ঝলমলে চুল।

বেকিং সোডায় উজ্জ্বল চুল –
নিস্প্রান চুলকে ঝলমলে করে তুলতে বেকিং সোডার কোন বিকল্প নেই। এ কাপ হালকা গরম পানির মাঝে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করা ভেজা চুলে এই মিশ্রণ লাগান। ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এবার চুলের চমক দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন!

ত্বক ও চুলের যত্নে বাঙ্গির উপকারিতা
ত্বক ও চুলের যত্নে বাঙ্গির উপকারিতা

বাঙ্গি বা ফুটি অনেকেই অপছন্দ করেন। কারণ এটি খেতে খুব বেশি সুস্বাদু নয়। কিন্তু বাঙ্গির রয়েছে অনেক পুষ্টিগুন। আমাদের দেহের সুরক্ষায় বাঙ্গি অত্যন্ত উপকারি একটি ফল। স্বাদের কারণে অনেকে এই ফলটি থেকে দূরে থাকেন বলে এই ফলের গুন সম্পর্কে অনেকেই অজ্ঞাত। বাঙ্গির যেমন স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে তেমনই রয়েছে বেশ সৌন্দর্যগুণ। রূপচর্চায় বেশ প্রাচীনকাল থেকেই বাঙ্গি ব্যবহার হয়ে আসছে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক বাঙ্গির সৌন্দর্য ।

ত্বক ও চুলের যত্নে বাঙ্গির উপকারিতা-

 

ত্বক ও চুলের যত্নে বাঙ্গির উপকারিতা

ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে
বাঙ্গি ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ত্বক কুচকে যাওয়া এবং ফ্রি র্যা ডিক্যাল থেকে রক্ষা করতে বাঙ্গির তুলনা নেই। এটি ত্বকের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ ঠিক করতে সাহায্য করে। বাঙ্গির প্রোটিন কম্পাউন্ড ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে ত্বককে করে তোলে সুন্দর।
বাঙ্গি থেঁতো করে নিয়ে মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। নিয়মিত ব্যবহারে পাবেন উজ্জ্বল সুন্দর ত্বক।

ত্বকের ব্রণ, একজিমা সমস্যা দূর করে
ত্বকের ব্রনের সমস্যা কিংবা একজিমা সমসসায় যারা ভুগে থাকেন তাদের জন্য বাঙ্গি অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন ১ গ্লাস বাঙ্গির শরবত ত্বককে ভেতর থেকে সাস্থ্যবান করে তুলতে সাহায্য করে। এতে করে ত্বকের ব্রনের সমস্যা এবং অন্যান্য সমস্যা দূর হয়।
বাঙ্গি ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে একটি পাতলা কাপড়ে ছেঁকে রসটুকু বের করে নিন। এই রস আপনি লোশনের মতো ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে ব্রণ এবং একজিমার সমস্যা থেকে রক্ষা পাবেন।

চুল পড়া রোধ করে
ভিটামিন বি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘ইন্সনিটোল’ যা আমাদের নতুন করে চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করে। এই উপাদানটি বাঙ্গিতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। নিয়মিত বাঙ্গি খেলে চুল হয় স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ও সুন্দর।
বাঙ্গি ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এটি শ্যাম্পু করার পর চুলে কন্ডিশনারের মতো ব্যবহার করুন। এতে চুলের নানা সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

Add 600 * 300
© Copyright 2017 By GBnews24.com LTD Company Number: 09415178 | Design & Developed By (GBnews24 Group ) ☛ Email: gbnews24@gmail.com

United States   USA United States