বিশেষ পোশাকে বিশেষ হতে - GBnews24
Beauty Tips
Add Post
Games
8 1 8 Best strategy game

বিশেষ পোশাকে বিশেষ হতে

নগরজীবনে আপাতত শীত মানে সকাল বা রাত! নগরে শীত কম, তাই বলে শীতকেন্দ্রিক আয়োজনের যেন কমতি নেই। কম ঠাণ্ডায় পরার উপযোগী করেই বানানো হচ্ছে এ সময়ের শীতের পোশাক। আর ট্রেন্ডও বদলে যাচ্ছে বছর বছর। পাশাপাশি ছিমছাম পোশাকেই নিজেকে বিশেষ দিনের উত্সবগুলোতে দেখতেই যেন বেশি পছন্দ। পোশাকে দেশীয় কিংবা পাশ্চাত্য কাটছাঁট যে দেশেরই হোক না কেন, কাপড়টাও হওয়া চাই আরামদায়ক।

 

এখন ফ্যাশনে চলতি লং প্যাটার্নের গাউন, টপস বা টিউনিক। ফ্রক কাটের টপসগুলো দৈর্ঘ্যে সাধারণত সেমি লং ও শর্ট। ফিউশন কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য আছে। পাশাপাশি বেসিক এ-লাইন থেকে বেরিয়ে ডিজাইনাররা এখন এ-লাইনে আনতে সক্ষম ভিন্ন ধাঁচ। ড্রেসকে আরও আধুনিক করতে, ফিটিংয়ের মধ্যেই পরিবর্তন, পার্থক্য আনতে, শেইপিংয়ে নতুনত্ব আনতে বদলে গেছে সেই রীতি। প্যাটার্নে আনা হয় রকমারি ডার্টের ব্যবহার। কুর্তায় বা টপসে ড্রপ ওয়েস্টের ব্যবহার পার্টি লুক দিতে সক্ষম। তবে বেশি হিজিবিজি কাটের বাইরে সবচেয়ে ছিমছাম প্যাটার্ন বটমের টিউনিক কাট। ড্রপ ওয়েস্ট ফ্যাশনে ট্রেন্ডি ডিজাইনের আরেক নাম। কুর্তায় বা টপসে ড্রপ ওয়েস্টের ব্যবহার পার্টি লুক দিতে সক্ষম। তবে বেশি হিজিবিজি কাটের বাইরে সবচেয়ে ছিমছাম প্যাটার্ন বটমের টিউনিক কাট। সিম্পল ডিজাইনের মধ্যে টিউনিক প্যাটার্ন কামিজে অসাধারণ লুক এনে দেয়। কামিজের ইয়োকে গেদার অথবা ইয়োক থেকে ফ্লেয়ার এখন নতুনত্বের আরেক রূপ। ফ্রক কাটের টপসগুলো দৈর্ঘ্যে সাধারণত সেমি লং ও শর্ট। ফিউশন কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য আছে। কোমরে কুঁচি বা ইলাস্টিক, নিচের দিকে ঘের দেওয়া, কোমর থেকে আলাদা রঙের কাপড়, বুকের সামনে নকশা ইত্যাদি একেবারে ভিন্নতা এনে দিয়েছে এসব টপসে। ঘের ছাড়া টপস বা কাফতান কাটের টপসও মিলবে। শুধু কাটিং নয়, নজর দেওয়া হয়েছে লো হাইট কাট, লং প্যাটার্ন আনারকলি কাট ও টিউনিক প্যাটার্ন। ছিমছাম নকশায় টিউনিক প্যাটার্ন কাটেও স্মার্ট লুক খুঁজে পাওয়া যায়।

 

ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে স্লিম বা ট্রিম ফিট এখন বেশি চলতি। তবে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে বেসিক হালকা রঙগুলোই। বটমে চিনো, কিমানো, ন্যারো শেপ বেশি চলতি। ডেনিম বা টুইল সবকিছুতেই ন্যারো প্যাটার্নটা বেশি পছন্দ। শার্টের ক্ষেত্রে কলার প্লিট, স্লিভ কার্ভে এসেছে বৈচিত্র্য। রিংকেল ফ্রি কাপড়ে তৈরি শার্ট পছন্দ অধিকাংশ তরুণের। কিন্তু মজার বিষয় হলো, একই সময়ে আন্তর্জাতিক কালার চার্ট আমাদের দেশীয় ফ্যাশনকে সেই অর্থে প্রভাবিত করে না। তাই ফ্যাশন ফোরকাস্টিংয়ে উঠে আসা পাশ্চাত্য রঙের ছোঁয়া এখানে খুব একটা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু ইন্টারনেটে তারুণ্যের অবাধ বিচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব উপস্থিতির কারণে পাশ্চাত্য ফ্যাশন ট্রেন্ড এখন অনেকেরই দৈনন্দিন চর্চার বিষয়। নিজেকে আলাদা লুকে এবং স্বাতন্ত্র্য পোশাক-আশাকে গর্জিয়াসভাবে ফুটিয়ে তোলার আয়োজনও যেন কম নয়। তাই দেশীয় অনেক ব্র্যান্ডগুলোর গদবাঁধা স্টাইল স্টেটমেন্ট থেকে ফ্যাশন হান্টাররা বের হয়ে যাচ্ছেন উইন্ডো শপিংয়ে। ডে আউট করছেন নতুন পোশাক বা ট্রেন্ড কী আসছে সেই সমীকরণে নিজের লুকটা মেলতে। এধরনের বিশেষ পোশাকের খোঁজে যেতে পারেন ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, সেইলর, জেন্টল পার্ক, আম্বার, মেনজ ক্লাব ও আড়ংয়ে।

 

Related Tips

See more

The 10 benefits of coconut oil
The 10 benefits of coconut oil

Coconut oil is one of the few foods that can be classified as a “superfood.”

Its benefits include weight loss, better brain function, skin health and many more.

Here are 10 impressive health benefits of coconut oil.

1. Coconut Oil Contains Fatty Acids With Powerful Medicinal Properties

 

2. Populations That Eat a Lot of Coconut Oil Are Healthy

3. Coconut Oil Can Help You Burn More Fat

4. Coconut Oil Can Kill Harmful Microorganisms

5. Coconut Oil Can Reduce Your Hunger, Helping You Eat Less

6. The Fatty Acids in Coconut Oil Are Turned into Ketones, Which Can Reduce Seizures

7. Coconut Oil Can Improve Blood Cholesterol Levels

8. Coconut Oil Can Protect Hair Against Damage, Moisturize Skin and Function as Sunscreen

9. The Fatty Acids in Coconut Oil Can Boost Brain Function in Alzheimer’s Patients

10. Coconut Oil Can Help You Lose Fat, Especially The Harmful Abdominal Fat

Source: Authority nutrition

T.S

বিশেষ পোশাকে বিশেষ হতে
বিশেষ পোশাকে বিশেষ হতে

নগরজীবনে আপাতত শীত মানে সকাল বা রাত! নগরে শীত কম, তাই বলে শীতকেন্দ্রিক আয়োজনের যেন কমতি নেই। কম ঠাণ্ডায় পরার উপযোগী করেই বানানো হচ্ছে এ সময়ের শীতের পোশাক। আর ট্রেন্ডও বদলে যাচ্ছে বছর বছর। পাশাপাশি ছিমছাম পোশাকেই নিজেকে বিশেষ দিনের উত্সবগুলোতে দেখতেই যেন বেশি পছন্দ। পোশাকে দেশীয় কিংবা পাশ্চাত্য কাটছাঁট যে দেশেরই হোক না কেন, কাপড়টাও হওয়া চাই আরামদায়ক।

 

এখন ফ্যাশনে চলতি লং প্যাটার্নের গাউন, টপস বা টিউনিক। ফ্রক কাটের টপসগুলো দৈর্ঘ্যে সাধারণত সেমি লং ও শর্ট। ফিউশন কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য আছে। পাশাপাশি বেসিক এ-লাইন থেকে বেরিয়ে ডিজাইনাররা এখন এ-লাইনে আনতে সক্ষম ভিন্ন ধাঁচ। ড্রেসকে আরও আধুনিক করতে, ফিটিংয়ের মধ্যেই পরিবর্তন, পার্থক্য আনতে, শেইপিংয়ে নতুনত্ব আনতে বদলে গেছে সেই রীতি। প্যাটার্নে আনা হয় রকমারি ডার্টের ব্যবহার। কুর্তায় বা টপসে ড্রপ ওয়েস্টের ব্যবহার পার্টি লুক দিতে সক্ষম। তবে বেশি হিজিবিজি কাটের বাইরে সবচেয়ে ছিমছাম প্যাটার্ন বটমের টিউনিক কাট। ড্রপ ওয়েস্ট ফ্যাশনে ট্রেন্ডি ডিজাইনের আরেক নাম। কুর্তায় বা টপসে ড্রপ ওয়েস্টের ব্যবহার পার্টি লুক দিতে সক্ষম। তবে বেশি হিজিবিজি কাটের বাইরে সবচেয়ে ছিমছাম প্যাটার্ন বটমের টিউনিক কাট। সিম্পল ডিজাইনের মধ্যে টিউনিক প্যাটার্ন কামিজে অসাধারণ লুক এনে দেয়। কামিজের ইয়োকে গেদার অথবা ইয়োক থেকে ফ্লেয়ার এখন নতুনত্বের আরেক রূপ। ফ্রক কাটের টপসগুলো দৈর্ঘ্যে সাধারণত সেমি লং ও শর্ট। ফিউশন কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য আছে। কোমরে কুঁচি বা ইলাস্টিক, নিচের দিকে ঘের দেওয়া, কোমর থেকে আলাদা রঙের কাপড়, বুকের সামনে নকশা ইত্যাদি একেবারে ভিন্নতা এনে দিয়েছে এসব টপসে। ঘের ছাড়া টপস বা কাফতান কাটের টপসও মিলবে। শুধু কাটিং নয়, নজর দেওয়া হয়েছে লো হাইট কাট, লং প্যাটার্ন আনারকলি কাট ও টিউনিক প্যাটার্ন। ছিমছাম নকশায় টিউনিক প্যাটার্ন কাটেও স্মার্ট লুক খুঁজে পাওয়া যায়।

 

ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে স্লিম বা ট্রিম ফিট এখন বেশি চলতি। তবে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে বেসিক হালকা রঙগুলোই। বটমে চিনো, কিমানো, ন্যারো শেপ বেশি চলতি। ডেনিম বা টুইল সবকিছুতেই ন্যারো প্যাটার্নটা বেশি পছন্দ। শার্টের ক্ষেত্রে কলার প্লিট, স্লিভ কার্ভে এসেছে বৈচিত্র্য। রিংকেল ফ্রি কাপড়ে তৈরি শার্ট পছন্দ অধিকাংশ তরুণের। কিন্তু মজার বিষয় হলো, একই সময়ে আন্তর্জাতিক কালার চার্ট আমাদের দেশীয় ফ্যাশনকে সেই অর্থে প্রভাবিত করে না। তাই ফ্যাশন ফোরকাস্টিংয়ে উঠে আসা পাশ্চাত্য রঙের ছোঁয়া এখানে খুব একটা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু ইন্টারনেটে তারুণ্যের অবাধ বিচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব উপস্থিতির কারণে পাশ্চাত্য ফ্যাশন ট্রেন্ড এখন অনেকেরই দৈনন্দিন চর্চার বিষয়। নিজেকে আলাদা লুকে এবং স্বাতন্ত্র্য পোশাক-আশাকে গর্জিয়াসভাবে ফুটিয়ে তোলার আয়োজনও যেন কম নয়। তাই দেশীয় অনেক ব্র্যান্ডগুলোর গদবাঁধা স্টাইল স্টেটমেন্ট থেকে ফ্যাশন হান্টাররা বের হয়ে যাচ্ছেন উইন্ডো শপিংয়ে। ডে আউট করছেন নতুন পোশাক বা ট্রেন্ড কী আসছে সেই সমীকরণে নিজের লুকটা মেলতে। এধরনের বিশেষ পোশাকের খোঁজে যেতে পারেন ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, সেইলর, জেন্টল পার্ক, আম্বার, মেনজ ক্লাব ও আড়ংয়ে।

 

মুঠোফোনে আদবকেতা
মুঠোফোনে আদবকেতা

কিছু মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছেন, যারা তাদের মোবাইল নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে পৃথিবীকে একদম ভুলে যান। ভুলে যান তাদের আশপাশে থাকা মানুষগুলোকে, যারা তার কর্মকাণ্ডে বিরক্ত বোধ করছেন। মোবাইল নিয়ে এ ধরনের আচরণ কখনোই শোভনীয় নয়। বিশ্বে প্রায় প্রতিদিন হাজারের অধিক মানুষ মোবাইল ব্যবহারকারীদের দলে যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশও এদিক থেকে পিছিয়ে নেই। এখন তো ভাবতেই অবাক লাগে যে, বিশ্বজুড়ে কতভাবেই না মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। সবার সামনে দামি ও স্মার্ট মোবাইল ফোন বের করাটা এখন আর বড়লোকি দেখানোর মতো কোনো বিষয় নয়। এই কথা বলার যন্ত্রটি এখন কার্যত সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে গেছে।

 

কিছু ব্যবহারকারী রয়েছেন, মোবাইল ছাড়া যাদের জীবনটাই যেন বৃথা। মোবাইল ফোনটি তাদের সঙ্গে সবসময়ই থাকে। আজকাল বাসে বা ট্রেনে উঠলে দেখা যায়, অনেকেই মোবাইলে কথা বলছে। আর তাদের রিংটোন শুনলে বিরক্ত না হয়ে থাকা যায় না। অনেকেই মুরগির ডাক থেকে শুরু করে শিশুর কান্নাসহ নানা অরুচিপূর্ণ রিংটোন তাদের মোবাইলে সেট করেন, যা সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। অনেক সময় এমন কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা সবকিছু ভুলে কথা বলাতে এতটাই মশগুল থাকেন যে, এতে তিনি যে আশপাশের মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করছেন, সেদিকে খেয়াল রাখেন না। এ ধরনের নির্বোধকে কেউ ভালো চোখে দেখে না। যদিও নিয়ম রয়েছে ব্যাংক, সরকারি অফিস, কনসার্ট এবং আরও কিছু জায়গায় মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখা। কিন্তু এগুলো মানার চাইতে, না মানাটাই যেন এখন নিয়মে পরিণত হচ্ছে।

 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোন থেকে যে তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয়, তা মানুষের দেহের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের। উন্নত দেশগুলোতে নিয়ম রয়েছে, শিশুদেরকে মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপনে লক্ষ্য হিসেবে দেখানো যাবে না। আমাদের দেশে এমন কোনো নিয়ম তো নেই, বরং শিশুদেরকেই বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের বিতর্কিত ব্যাপার থেকে সবার দূরে থাকতে হবে। যাই হোক, শিশুরা যেন অধিক সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলে বা সময় না কাটায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত।

 

এছাড়া প্রায়ই দেখা যায়, গাড়ি চালকেরা মোবাইলে কথা বলছে। দেশে কিন্তু আইন রয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পর্কে। প্রযুক্তির যেকোনো আবিষ্কারের মতো মোবাইল ফোনের খারাপ ও ভালো দুটি দিকই বর্তমান। জরুরি মুহূর্তে একটা মোবাইল ফোন আপনার জীবন-মরণ ঠিক করে দিতে পারে। যেকোনো সময় যেকোনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটাতে সাহায্য করে সেলফোন, যা বিস্ময়কর। আবার অবৈধ কাজও হচ্ছে এই মোবাইল ফোন দিয়ে। যা খুবই দুঃখজনক।      

পোশাকে জামদানি মোটিফ
পোশাকে জামদানি মোটিফ

শিল্পের ভিতরের যে ঐশ্বর্য ছড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্যে, তার ধারক হয়ে আজও জনপ্রিয়তায় অনন্য হয়ে আছে জামদানি বয়ন। একসময় মসলিনের পরিপূরক হয়ে আমাদের ফ্যাশন ঐতিহ্যে বসতি গড়েছিল জামদানি। ক্রমেই তা বাংলার তাঁতিদের আপন মমতায় আর সুনিপুণ দক্ষতায় হয়ে ওঠে ঐতিহ্যের পাশাপাশি আভিজাত্যের পোশাক। এই জামদানি শুধু এখন শাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমানে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া এমনকি হোম টেক্সটাইলেও জনপ্রিয় অধ্যায় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। পোশাকে জামদানির মোটিফের ব্যবহার নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী।

 

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মসলিন ও জামদানি সৌন্দর্য ও শিল্প-নৈপুণ্যে অনবদ্য। ৩০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রাচীন ভারতীয় মনীষী কৌটিল্য তার অর্থশাস্ত্র বইতে উল্লেখ করেছেন, বঙ্গ ও পুণ্ড্রবর্ধন মানে উত্তরবঙ্গে একধরনের সূক্ষ্ম-বস্ত্র বয়ন করা হয়। গ্রিক ইতিহাসবিদ পেরিপ্লাসের বইয়ে আছে, বঙ্গ থেকে আরব, চীনা ও ইতালীয় বণিকরা চার ধরনের সূক্ষ্ম-বস্ত্র ইউরোপে নিয়ে আসেন। এই সূক্ষ্ম-বস্ত্রগুলোর নাম ছিল ক্ষৌম, দুকুল, পত্ররনা ও কার্পাস। এর মধ্যে দুকুলকে ইতিহাসবিদরা মসলিন ও জামদানির আদিরূপ বলে চিহ্নিত করেছেন। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে এই কাপড়ের জনপ্রিয়তা ছিল মূলত ধনী অভিজাতদের মধ্যে। জামদানি মোটিফের সংরক্ষণ ও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, গঠন, আকৃতিগত সাদৃশ্য, পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা, শুদ্ধতা নিরূপণ এবং সংরক্ষণ ও আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক বিষয় দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ কারণ ও অজ্ঞতার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রয়োগে যদি পরিবর্তনের ধারায় নিমজ্জিত হয়, তখন সময়ের পালাবদলে একদিন ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃৃতি লোকজ মোটিফ তার শুদ্ধতা হারায়। নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শুদ্ধতা এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি অনিবার্য ধ্বংসের সীমায় ক্রমে উপনীত হয়, যা অন্য বিষয় ও বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে এর নতুন রূপান্তরে নিজেকে চিহ্নিত করে। ভিন্ন জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যের বয়ন শিল্প হিসেবে প্রাচ্যের বয়নশিল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল জামদানি মোটিফ। এই মোটিফে খুব সহজেই কাপড়ের ভিতর ছায়ার মাঝে তৈরি করা যায় নকশার প্রতিবিম্ব। মোটিভগুলো জ্যামিতিক আইন অনুসরণ করলেও তা শুধুমাত্র রেখা, চারকোনা কিংবা ত্রিভুজ নয়; বরং তা দিয়ে ফুল, লতা-পাতা থেকে শুরু করে ফুটে ওঠে নানা রকম ডিজাইন বিন্যাস।

 

ঢাকার রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রামে এই শিল্পের বর্তমান নিবাস। অথচ এর যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রাচীনকালে। এটি মূলত বাংলার ঐতিহ্যের ধারক মসলিনের একধরনের প্রজাতি। তবে এর পাড় ও জমিনে অপেক্ষাকৃত মোটা সুতোয় বুননের মাধ্যমে ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা হয়। বর্তমানে বয়ন ধারায় জামদানি শাড়িতে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য করলেও মোগল আমলে তা ব্যবহৃত হতো ‘আঙরাখা’ নামক বিশেষ পোশাক প্রস্তুতে। মূলত সেই সময়েই ইউরোপে জামদানির পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইউরোপে গজ কাপড় হিসেবে জামদানি বুননের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। একসময় শুধু গজ কাপড় হিসেবে বোনা হলেও পরবর্তীতে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে জামদানি শাড়িতে। বর্তমানে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া এমনকি হোম টেক্সটাইলেও জামদানি জনপ্রিয়। যা আমাদের জন্য ইতিবাচক বলা যায়। আমাদের দেশীয় ফ্যাশনে এর ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, জামদানির স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বিধি বহির্ভূত আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তে অনাধিকার চর্চা থেকে যেন সবাই বিরত থাকে। বয়ন শিল্পের হাজার বছরের বিশ্বব্যাপী ইতিহাসে জামদানি তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে চিরদিন আলোকিত হয়েই থাকবে। এই গৌরব আমাদের পূর্বপুরুষের অর্জন। যা আমরা আজ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।

Add 600 * 300
© Copyright 2017 By GBnews24.com LTD Company Number: 09415178 | Design & Developed By (GBnews24 Group ) ☛ Email: gbnews24@gmail.com

United States   USA United States