লাকড়ির সন্ধানে ধুধু বালুচরে ছোটেন তারা

responsive

 

ছাদকেুল ইসলাম রুবলে,গাইবান্ধাঃদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ মিনারা, নছিমন ও লিপি বেগম। জ্বালানির লাকড়ির অভাব যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই দৈনন্দিন দুপুর হলেই নৌকাযোগে ছুটেতে থাকেন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে। ধুধু বালুচরে মাইলের পর মাইল হেঁটে ছুটেন লাকড়ির সন্ধানে। সেখানে বিকেল পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয় হরেক রকম খড়ি। নদের ওপার থেকে এসব লাকড়ির বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরে আসে এপারের নীড়ে।

 

সম্প্রতি গাইবান্ধার ব্রহ্মপত্র নদের রসুলপুরের চরসহ বিভিন্ন চরে দেখা যায়, ওইসব গৃহবধূদের লাকড়ি সংগ্রহের দৃশ্য। শুধু লিপি আর মিনারা নয়, নিম্নআয়ের আরও অনেক গৃহবধূ নদের এপার থেকে ওপারের চরাঞ্চলে দলবেঁধে ছুটতে থাকেন তারা।  জানা যায়, নদী বিধৌত জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমনাসহ আরও বেশ কিছু নদ নদী। এসব নদীগুলোর বুকে জেগে উঠেছে শতাধিক বালুচর। চারিদিকে নজর কাড়ে ধুধু বালুচর। এসব চরাঞ্চলে আবাদ করা হয় ভুট্টা, মরিচ, বেগুনসহ নানা জাতের শস্য। এসব থেকে ফসল নেওয়ার পর শস্যের গাছগুলো জ্বালানি লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে লাকড়ির চাহিদা পূরণ করে অধিকাংশ লাকড়ি ফেলে দেন কৃষক। আর নদের এপারের স্বল্প আয়ের পরিবারে লাকড়ির সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত গৃহবধূরা দলবেঁধে ছুটে চলেন নদের ওপারে। এভাবে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চরের এদিক সেদিক লাকড়ি সংগ্রহ করার পর তা মাথায় নিয়ে হেঁটে ফিরেন বাড়িতে। এসব লাকড়ি চুলায় জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সাড়েন তারা।

 

ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এপারের কঞ্চিপাড়া এলাকার ছিন্নমূল পরিবারের নুরজাহান বেমগ নামের এক গৃহবধূ জানান, তার স্বামী এনামুল হক একজন দিনমজুর। দিন এনে দিন খেতে হয় তাদের। এভাবে সারাদিনের পারিশ্রমিক দিয়ে চাল-সবজি কেনা গেলেও লাকড়ি কেনার সামর্থ নেই। তাই প্রতিদিন ১০-১২ কিলোমিটার হেঁটে ব্রহ্মপুত্রের ওপার থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে নৌকাযোগে এপারে আসতে হয় তাকে।  রসুলপুর চরের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন জানান, চলতি খরিপ মৌসুমে চরের জমিতে ভুট্টা-বেগুনসহ আরও বেশ কিছু ফসল উৎপাদন করেছেন তিনি। এসব ফসলের গাছগুলো জ্বালানি খড়ি হিসেবে ব্যবহার উপযোগী। নিজের চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ঠ খড়িগুলো ফেলে দেন তিনি। আর এসব পরিত্যাক্ত খড়ি নদের ওপারের নারীরা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় বাড়িতে।

 

ব্রহ্মপুত্র নদী ঘেঁসা কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু জানান, এখানকার দরিদ্র পরিবাররা জ্বালানির জন্য লাকড়ি ব্যবহার করে থাকে। তারা নৌকাযোগে চরাঞ্চলে গিয়ে বিভিন্ন শস্যের পরিত্যক্ত গাছগুলো সংগ্রহ করে মাটির চুলায় জ্বালিয়ে রান্না করেন।

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন