জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //
এক সামরিক মহড়ায় সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর নাগরিকদের জীবনের মান উন্নয়নে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার সময় উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে। গত শনিবার দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে একপর্যায়ে কিম জং উনকে কেঁদে ফেলতে দেখা যায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক মহড়ায় জড়ো হয় হাজার হাজার সেনা সদস্য। সম্প্রতি দেশটিতে বিধ্বংসী ঝড় এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সেনা সদস্যদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান কিম জং উন।
সেনা সদস্যদের উদ্দেশে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন বলেন, তর দেশের একজন নাগরিকও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়ায় তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। তবে উত্তর কোরিয়ার এই দাবি নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ পোষণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া।
কিম জং উন বলেন, নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরোপ করা বিধিনিষেধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের জীবনের সংকট মোচনে আমার তৎপরতা এবং দায়িত্ববোধ যথেষ্ট হতে পারেনি। তারপরও দেশের জনগণ সবসময় আমাকে বিশ্বাস করেন এবং আমার ওপর তাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে আর আমার পছন্দ এবং প্রতিশ্রুতি যাই হোক না কেন, তাদের কাছে সেটা কোনও বিষয় নয়।’
কিম জং উনের এই বক্তব্যের সময় অনেক দর্শককেই চোখ মুছতে দেখা যায়। অবশ্য, দেশটির এই ধরনের অন্য আয়োজনগুলোতেও দর্শকদের চোখ মোছার দৃশ্য বিরল নয়।
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে। তারপরও করোনা মোকাবিলায় দেশটির প্রায় সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতিসংঘ বলছে, দেশটির অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে আর খরা ও ঝড়ের কারণে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন