২০১৭ সালে নানা ও মায়ের সঙ্গে স্পেনে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ব্রিটিশ কিশোর অ্যালেক্স বেটি। তখন তার বয়স ছিল ১১ বছর। এরপর একে একে কাটে ছয়টি বছর। কিন্তু অ্যালেক্সের খোঁজ কিছুতেই পাচ্ছিলেন না তার নানি সুসান কারুয়ানা।
হঠাৎ গত বুধবার সুসানের ফোনে অ্যালেক্সের একটি বার্তা আসে। সেখানে লেখা ছিল, ‘হ্যালো নানি। আমি অ্যালেক্স। আমি এখন ফ্রান্সের তুলুসিতে।
আশা করি তুমি এই বার্তা পাবে। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’
ফ্রান্সের তুলুসি থেকে ফাবিয়েন আসিদিনি নামে এক মোটরসাইকেলচালকের মোবাইল ফোন থেকে অ্যালেক্স ওই বার্তা পাঠিয়েছিল।
ফাবিয়েন জানান, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে তিনি বৃষ্টির মধ্যে অ্যালেক্সকে পাহাড়ের পাদদেশে একটি রাস্তায় হাঁটতে দেখেন। অ্যালেক্স তাকে জানায়, চার দিন ধরে ওই পথ ধরে হেঁটে সে ওই জায়গায় পৌঁছেছে। সে একটি পাহাড়ি জায়গায় ছিল। তবে ওই জায়গার ঠিকানা অ্যালেক্স বলতে পারেনি। সে সাহায্যের জন্য দূতাবাসের খোঁজ করছিল।
ফাবিয়েন বলেন, অ্যালেক্সের নাম ইন্টারনেটে লিখে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন তাকে খোঁজা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অ্যালেক্স ফ্রান্সে দুই বছর ধরে অবস্থান করছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। অ্যালেক্স ফ্রান্সের প্রত্যন্ত পাইরেনিয়া উপত্যকায় থাকত বলে পুলিশের ধারণা। পিরেনিসের পাদদেশে অবস্থিত অঞ্চলটি যারা বিকল্প জীবনধারার খোঁজ করে, তাদের আকর্ষণ করে। অ্যালেক্স ভবঘুরে সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করত বলে পুলিশের ধারণা। তবে মায়ের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানায়নি অ্যালেক্স।
এদিকে নাতিকে খুঁজে পেয়ে ভীষণ খুশি অ্যালেক্সের বৈধ অভিভাবক সুসান। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, তার ধারণা অ্যালেক্সের মা মেলানিয়া বেটি ও নানা ডেভিড বেটি তাকে মরক্কোকে অ্যাধ্যাত্মিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাসের জন্য নিয়ে গেছেন। তার মেয়ে ও ডেভিড বিকল্প জীবনধারার খোঁজ করছিলেন। এমনকি তারা অ্যালেক্সকে স্কুলেও পাঠাতে চাইতেন না। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মা ও নানার সঙ্গে ছুটি কাটাতে স্পেনের উদ্দেশে রওয়ানা হয় অ্যালেক্স। ওই বছরের ৮ অক্টোবর তাকে শেষবারের মতো মালাগা বন্দরে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে নাতির কোনো হদিশ পাননি সুসান।
১৭ বছর বয়সী অ্যালেক্সকে নানির কাছে ফিরিয়ে দিতে প্যারিসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
জিবিডেস্ক //

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন