ব্রিটেনে দক্ষ কেয়ারারের ৭১ হাজার পদ খালি

gbn

ডিজেবিলিটি বিষয়ক চ্যারিটি সেন্স বলেছে, দক্ষ সোশাল কেয়ারারের সংকটে ইংল্যান্ডে অনেক মানুষের জীবন এখন ঝুঁকিতে। সংস্থাটি বলেছে, কেয়ার সেক্টর এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। ইংল্যান্ডে বাসা-বাড়িতে গিয়ে যারা কেয়ার সেবা দিয়ে থাকেন, গত এক দশকে এই কাজে লোকবল সংকট দ্বিগুণ হয়ে ৭১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। লোকবলের সংকটেই আগামী এপ্রিল মাস থেকে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। ডিজেবিলিটি বিষয়ক চ্যারিটি সেন্স এর ধারনা, ব্রিটেনে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ আছেন, যারা জটিল পর্যায়ের ডিজেবিলিটিতে আক্রান্ত।

উইলটশায়ারের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়স্ক জন গুরুতরভাবে ডিজেবল। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর থেকে জনকে নির্ভর করতে হয় তাঁর সৎ মায়ের সেবাযত্নের ওপর।

জন্মের সময়েই জনের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এনএইচএস এর খরচে পূর্ণাঙ্গ কেয়ার সুবিধা পেয়েছেন জন। তাঁর পেছনে এনএইচএস এর খরচ হয় সপ্তাহে ৮ হাজার পাউন্ড।
জনকে দিবারাত ২৪ঘণ্টা কেয়ার দিতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কেয়ারার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ ধরনের কর্মীর তীব্র সংকট থাকার কারণে জনকে সার্বক্ষণিক সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

জনের সৎ মা সুজান প্রতি সপ্তাহে ১৪০ ঘণ্টা সময় দেন জনের সেবায়।

আনা এবং তাঁর মেয়ে লুসি সপ্তাহের সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাই খুব সকালে, গভীর রাতে আর উইকেনডে কেয়ার দিতে হয় সৎ মা সুজানকে।

ব্রিটেনের কয়েক লাখ বাসাবাড়িতে আনার মতো কেয়ার ওয়ার্কার এর অনেক প্রয়োজন। কিন্তু এই পেশায় মজুরীও কম, কাজের শর্তাবলীও কঠিন।

ডিজেবিলিটি বিষয়ক চ্যারিটি সেন্স এর চীফ এক্সিকিউটিভ বলেছেন, জন মরিসনের মতো কেইস এখন ব্রিটেনের সর্বত্র দেখা যায়।

জনের সৎ মা সুজানের আরথ্রাইটিসের সমস্যা আছে। জনের পিতা মেলকম আগে সাহায্য করতে পারতেন। কিন্তু করোনা মহামারির পর সব বদলে যায়। ছেলের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতে গিয়ে মেলকমের পায়ে রোগের সংক্রমণ হয়।

এক পর্যায়ে মেলকমকে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়। সুজান কেবল জনের কেয়ারারের দায়িত্ব পালন করছেন না। জনের পেছনে এনএইচএস এর যত অর্থ খরচ হচ্ছে তাঁর হিসাব-নিকাশ রাখতে হয় তাঁকে।

এনএইচএস জানিয়েছে, যেসব পরিবার তাদের কেয়ার বাজেট এর ব্যবস্থাপনা নিজেরাই করে, তাদেরকে এনএইচএস এর পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হয়। কিন্তু এতো কাজের বোঝা একা বহন করা সুজানের জন্য সত্যিই কঠিন।

দিনের বেলা কেয়ার এর দায়িত্ব শেষ করে বাড়ি ফিরে যান আনা ও লুসি। পরের দিন সকাল পর্যন্ত জনকে দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে বৃদ্ধ সুজান আর মেলকমের ওপর।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন