ইংল্যান্ডের ভাড়া বাসা-বাড়িতে ইঁদুরের বংশবিস্তার ও উৎপাতের অভিযোগ গত চার বছরে ১০ গুন বেড়েছে। হাউজং অম্বাডসম্যান এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাড়ির মালিকদের অনেকে এই সমস্যার সমাধান না করে উল্টো ভাড়া ঘরের বাসিন্দার জীবনযাপন পদ্ধতিকে ইঁদুরের বংশবিস্তারের জন্য দায়ী করেন।
কিচিন কাবারডে স্থাপিত ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই ইঁদুর। জো জো এই ক্যামেরা স্থাপন করেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের রচডেলের বাসিন্দা জো জো জানান, গত দুই বছর যাবত তিনি ইঁদুরের উৎপাতের মধ্যেই বসবাস করছেন। কিন্তু তাঁর হাউজিং অফিসার সমস্যার সমাধানে কিছুই করছেন না।
ম্যানচেস্টার সিটি সেন্টারে মিকাইলা আলী এবং তাঁর মা বিবিসির প্রতিবেদককে তাদের ফ্ল্যাট ঘুরিয়ে দেখান। এখানেই তাদের বসবাসের কথা ছিল। কিন্তু বাধ্য হয়েই আপাততঃ তাঁরা এখানে থাকছেন না।
মিকাইলার হাউজিং এসোসিয়েশন তাঁকে একটি হোটেলে রেখেছে। অনেকে মনে করেন হোটেলে থাকা মানে অভিজাত জীবনযাপন করা। কিন্তু গর্ভবতী হয়েও গরম খাবার রান্না করার কোনো সুযোগ না থাকলে এই আভিজাত্য দিয়ে কী হবে? গত ছয় মাসে এটি তাদের তৃতীয় হোটেল, যেখানে হাউজিং এসোসিয়েশন থেকে বসবাসের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মিডলসব্রা অঞ্চলে মানুষের বাড়ির পেছনের রাস্তাগুলো দেখলে রীতিমত শিউরে উঠতে হয়। পেস্ট কন্ট্রোলার শোন মুনি জানেন, কোথায় কোথায় ইঁদুরের বসবাস এবং অস্তিত্ব আছে।
মিকাইলা অপেক্ষা করছেন, হোটেল থেকে নিজ ঘরে ফিরে যেতে। তাঁর হাউজিং এসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে ইঁদুরের বংশবিস্তারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে।
জো জোও নতুন কোনো ঘরে স্থানান্তরের অপেক্ষায় আছেন। তাঁর হাউজিং এসোসিয়েশনও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানের বাসাবাড়িতে ইঁদুরের বংশবিস্তার ও উৎপাতের কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এই সমস্যার সমাধানে কেবল মাসের পর মাস নয়, বছরের বেশী সময় অপেক্ষা করছেন অনেকে। নিরাপদ এবং আরামদায়ক ঘর পাওয়ার অধিকার থেকে ইংল্যান্ডের লাখো মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন