প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু গত ১০ নভেম্বর আবর্জনা পরিষ্কারের এই লরিতে আসলে তোলা হচ্ছিল ১০ জনের বেশী হোমলেস মানুষের বসবাসের তাঁবু। লন্ডনের কেমডেনে অবস্থিত ইউনিভারসিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালের বাইরের রাস্তায় এসব হোমলেস মানুষ বসবাস করেন। তাঁবুগুলো যেখানে স্থাপিত হয়েছিল সেখানে গরম বাতাস বের হয়। ফলে হোমলেস লোকেরা উষ্ণ থাকতে পারেন।
ইউনিভারসিটি কলেজ লন্ডন হসপিটাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিস, সেখান থেকে হোমলেসদের সরিয়ে দিতে যায়। পুলিসের ডিসপারসাল অর্ডার অমান্য করায় হোমলেস এন্টোনি সিনক্লেয়ারকে সেখান থেকে গ্রেফতার করে পুলিস। এন্টোনি সিনক্লেয়ার বলেন, তিনি মাদক গ্রহণ করেন না, মদও পান করেন না; পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেন। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিস এখন শিকার করে নিয়েছে, হোমলেসদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া অবৈধ কাজ হয়েছে।
চ্যারিটি সংগঠন লিবার্টির সহায়তায় আইনের আশ্রয় নেন এন্টোনি সিনক্লেয়ার। আইন অনুযায়ী, কারো বাসস্থান ডিসপারসাল অর্ডার এর আওতায় আনা যাবেনা। যেহেতু তাঁবুই ছিল এন্টোনি সিনক্লেয়ারের একমাত্র বাসস্থান, সেহেতু সেখানে ডিসপারসাল অর্ডার কার্যকর হতে পারেনা। এ সপ্তাহে এন্টোনি সিনক্লেয়ারকে একটি চিঠি লিখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেট পুলিসের কমিশনার স্যার মার্ক রউলি।
হোমলেস লোকেরা হসপিটাল ভবনের গা ঘেঁষে যেভাবে বসবাস করছিল, সেটিকে হসপিটালের কর্মী ও রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিযোগ করেছিল ইউনিভারসিটি কলেজ লন্ডন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের এমন অভিযোগকে রাবিশ হিসেবে বর্ণনা করলেন এন্টোনি সিনক্লেয়ার।
হোমলেস লোকেরা আবারও তাদের তাবুতে ফিরে এসেছেন। এন্টোনি সিনক্লেয়ারকে নতুন তাঁবু দেয়া হয়েছে। আগের স্থানেই তিনি তাঁবু গেড়ে আগের মতোই বসবাস শুরু করেছেন।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন