ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্নে ধাক্কা বাংলাদেশের

এতদিন যে বোলাররা দলকে টেনেছেন, গতকাল তারাই হতাশ করেছেন। টসের সময় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন জানান, গায়ানার নর্থ সাউন্ডে ১৫০ থেকে ১৬০ রান ভালো স্কোর হবে। অথচ ভারত স্কোর বোর্ডে তোলে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান। এক বোলার কম নিয়ে খেলা বোলিং বিভাগেরই বা কী করার ছিল ভারতের এমন শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিটের সামনে! জাকের আলীকে নিয়ে একাদশে স্বীকৃত ৯ ব্যাটার বাংলাদেশের।

তবে কাজে এলো না পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে ৮ উইকেটে ১৪৬ রান তুলতে পারেন নাজমুলরা। ৫৬ রানের বড় হারে কার্যত শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার আশা।

 

টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানা নাজমুল।

এই সিদ্ধান্ত অবাক করে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনকে। 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভন লেখেনে, ‘বাংলাদেশ দিনের খেলায় (স্থানীয় সময়) টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে!' ভারতের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত শর্মার ও বিরাট কোহলি সামনে শুরুতেই দুই স্পিনারকে আনেন নাজমুল। এমন পরিকল্পনায়ও অবাক ভন, 'দুই প্রান্ত থেকে দুই স্পিনার, তাঁদের বিপক্ষে যারা স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত।’

দুই স্পিনারকে পেয়ে শুরুতেই চড়াও হন ভারতের দুই ওপেনার।

শেখ মেহেদীর করা প্রথম ওভারে ৮ রান নেন দুজন। সাকিবের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তোলেন ১৫ রান। যদিও দ্রুতগতিতে রান বাড়াতে গিয়ে মূল্য দিতে হয় রোহিতকে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারত অধিনায়ক। ১১ বলে ২৩ রান করেন তিনি।

সাকিব বিশ্বকাপের প্রথম বোলার হিসেবে পঞ্চাশ উইকেটের মাইলফক স্পর্শ করেন। পরে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ওই ১ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে ভারত।

 

রোহিত ফিরলে কমে আসা রানের গতি বাড়াতে গিয়ে তানজিদ হাসানের স্লোয়ারে স্টাম্প ভাঙে কোহলির। ২৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। এক বল পর তানজিমের বাড়তি বাউন্সে পরাস্ত হন সূর্যকুমার যাদব। ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলেন রিশাব পান্ত ও শিভাম দুবে। চতুর্থ উইকেটে ৩১ রান যোগ করেন তাঁরা। ৩৬ রান করা পান্তকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। এরপর দুবের (৩৪) সঙ্গে ৫১ ও অক্ষর প্যাটের (৩*) সঙ্গে ৩৫ রানের জুটিতে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া। মুস্তাফিজের করা ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ বলে ৪ মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ২৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছয় মারেন পান্ডিয়া।

তানজিদ ও রিশাদ ২টি করে উইকেট নেন। এতে এবারের বিশ্বকাপে তাদের উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ১১টি করে। যা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

১, ৯, ৩, ০, ০- আগের পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি এটি। কাল অবশ্য ১৯৭ রান তাড়ায় তানজিম হাসান আর লিটন দাসের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৩৫ রান। প্রথম ৭ বলে ৩ রান করা লিটন পরে হাত খুলতে গিয়ে ফেরেন ১৩ রান করে। শুরুতে ব্যাট চালিয়ে খেললেও তানজিদ পরে সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ বলে ২৯ রান করে দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে যান এই বাঁহাতি। যদিও চেষ্টা করেছিলেন নাজমুল। তিনে নেমে খেলেন ৩২ বলে ৪০ রানের ইনিংস।

তবে সাকিব, মাহমুদ উল্লহর মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তাওহিদ হৃদয়ও প্র্যতাশা মিটাতে পারেননি। তাসকিনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া জাকের ১ রান থামেন। শেষ দিকে রিশাদের ১০ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংসের সৌজন্য ১৩০ পার হয় বাংলাদেশের ইনিংস, থামে ১৪৬ রানে।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন