এই দেশের পুলিশকে পুতুল সাজিয়ে রাখার সুযোগ নাই
রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
বাংলাদেশের সব মানুষ মানসিকভাবে সুস্থ? তাদেরকে বোঝালেই বুঝবে? নিষেধ করলেই শুনবে? আইনকানুন মানবে? যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয় তবে এখানেই থামুন। যদি 'না' হয় তবে চলেন আলাপ করি! কীভাবে এই দেশকে বাসযোগ্য করা যায়? কেমন করে মেধাবীদের দেশ ছেড়ে চিরতরে বিদেশে পাড়ি জমানো বন্ধ করা যায়? কোনো উপায় অবলম্বন করে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং বৈষম্য বিলোপ করা যায়? কিছু মানুষের জন্য আর্মি, পুলিশ এবং লাঠি বন্দুক লাগবে। নসিহত করে যদি সবাইকে সুনাগরিক বানানো যেতো তবে মাহফিলে-মসজিদে, স্কুলে-সমাজে সবাই আদর্শবান হয়ে গড়ে উঠতো। কেউ কখনো বিকৃত চিন্তা ধারণ করতো না। মন্দ কাজ করতো না এবং অপরাধে জড়াতো না। আমাদের চারপাশ কি অপরাধমুক্ত নাকি অপরাধ যুক্ত?
এখানে কেউ ক্যারা, কারো মাথায় আছে গ্যাঁড়া! তাইতো জেল লাগবে, ফাঁসি লাগবে। মাঝে মাঝে জোরেসোরে আঘাত লাগবে। বিবেককে জাগ্রত করার রসদ লাগবে! নয়তো সমাজ সুস্থ থাকবে না। দুই পাঁচজন লোক মানসিকভাবে অসুস্থ থাকুক, ঘরে থাকুক- তাতে তো অন্যের কিছুই যায় আসে না। কিন্তু যখন সেই বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারীরা সমাজের ক্ষতি করে তখন তাদেরকে যেকোনো উপায়ে থামাতে হবে। কারো দ্বারা যখন অন্যকেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তার দৌরাত্ম্য রুখতেই হবে। বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলোকে দমিয়ে রাখতেই হবে। সমাজে নারী-শিশুর নিরাপত্তা না থাকলে সেই সমাজকে সভ্যদের সমাজ বলা যায় না। যে সমাজে দিন দুপুরে ছিনতাই হয়, রাত ভরে ডাকাতি হয়, চাঁদাবাজি কিংবা ধর্ষণ অহরহ ঘটে সেই সমাজে মানুষের আবাসযোগ্য সমাজ বলা চলে? অসুস্থ প্রতিযোগিতার সমাজব্যবস্থায় ভালো মানুষও তো টিকে থাকতে পারে না।
উপায় কী? শুধু বুঝিয়ে? খারাপ-ভালোর পার্থক্য শুনিয়ে? ভুল করার পরে বারবার সংশোধনের সুযোগ দিয়ে? নসিহত করতে হবে সাথে বেত্রাঘাতও করতে হবে। অপরাধের পরিসর যত ব্যাপৃত তাকে প্রতিঘাত তত কঠোরতায় করতে হবে। কোনোভাবেই কেবল ওয়াজের ওপর নির্ভর করা যাবে না। সারাদেশে লাখো লাখো লোকের ওয়াজ-মাহফিল হচ্ছে কিন্তু হায়েনাদের পৈশাচিকতা বন্ধ হচ্ছে না। মসজিদে আজান হচ্ছ, মন্দিরে ঘণ্টা বাজছে কিন্তু আবু জাহেলদের নাতিপুতিদের বিচরণ থামছে না। কথায় সব মানুষ পাল্টে না। যারা অপরাধ প্রবণ, আইন ভঙ্গের মধ্যে যাদের পৈশাচিক স্বাদ আস্বাদন- তাদেরকে ডান্ডা মেনে ঠান্ডা করতে হবে। একদল হুজুগবাদী থাকবে, আরেকদল থাকবে সুবিধাবাদী। এদের সুশীলতার সরকার ভেসে গেলে দরকারি কাজগুলো করতে পারবে না। আঘাত কখনো কখনো সমাজের ব্যথা প্রশমনের কার্যকরী ওষুধ!
তবে কেবল শাসন নয়। শাসনের আগে যাতে শুধরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম ভুলটি যাতে ক্ষমা করা হয়। দাওয়াহ এবং ধাওয়া একসাথে চালাতে হবে। যারা খুব ঔদ্ধত্য আচরণ করে, যাদের থেকে শুধরে যাওয়ার আশা করা অবান্তর তাদেরকে চার দেয়ালের লাল দালানে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কিছু বার্তা পৌঁছাতে হবে। গোটা সমাজকে সন্ত্রাসের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই সমাজ-সংসার যদি বাসযোগ্য না থাকে তবে সবচেয়ে বাজে অবস্থার মুখোমুখি হবে ভালো মানুষগণ। কাজেই ছাড় নয় বরং সমন্বিত সাহসে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ জারি রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মন্দ বাতাস আটকে দিতে হবে। সমাজ যাতে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়- সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এখানে আমাদের বাবা এবং সন্তান বাস করে। কাজেই অন্যায়-অসততার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকে একটি নিরাপদ বাসস্থান উপহার দিতে হবে। যেখানে সামান্য জঞ্জালও সহ্য করা হবে। প্রত্যেককেই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ যদি দেশের জনগণকে ইউরোপের নাগরিকদের মত সবাইকেই শুদ্ধভাবে তবে মারাত্মক ভুল করবে। এই দেশের পুলিশকে পুতুল সাজিয়ে রাখার সুযোগ নাই। র্যাবকে ক্যাপ পরিয়ে ঘরে রাখার সুযোগ নাই। আর্মির চোখ রাঙানি বন্ধ রাখলে সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের সাথে চোখ রাঙাবে। কাজেই সভ্যদের সমাদার এবং অসভ্যদের দিকে শাস্তির বিধান জারি রাখতে হবে। যে জনপদের একাংশ উন্মাদ, হুজুগে মাতাল তাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া মানেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অবারিত সুযোগ প্রদানের নামান্তর। রাষ্ট্র যাতে অসভ্যদের দমাতে সভ্য আচরণ না করে। জনতার নিরাপত্তা, জনগণের স্বস্তি সবকিছুর আগেই প্রাধিকারপ্রাপ্ত। রাষ্ট্র মন্দ মানসিকতার প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে নিরীহ গোছের জনতার দিকে বেশি সদয় থাকুক। তাতেই সার্বিক কল্যাণ নিহিত। বাংলাদেশ তীর্থস্থানের মত নিরাপদ হোক- সে জন্য যা যা করণীয় তা পূরণে কোনো দৈন্য তৈরি না হোক- প্রত্যাশায় পুঁটিমাছ, আমজনতা!
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন