মোহাম্মদ মকিস মনসুর :
বৃটেনের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ শহরের শাহজালাল মসজিদের খতিব ও ঈমাম মাওলানা কাজি ফয়জুর রহমান মহোদয় গতকাল তারাবির নামাজের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ‘লাইলাতুল কদর’ এর নফল নামাজ ও ইবাদত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন,
তিনি বলেন, সংখ্যাগত দিক দিয়ে কত বেশি রাকাত নামাজ পড়তে পারলাম সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে কত সুন্দর করে মনোযোগ সহকারে খুশু-খুজুর সাথে কোয়ালিটি মেইনটেইন করে কতটুকু নামাজ পড়তে পারলাম সে দিকে বেশি লক্ষ্য রাখবেন।
যেমন সূরাতুল কারিয়াহতে বলা হচ্ছে فَاَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُهٗঅতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবেএক্ষেত্রে একথা স্মর্তব্য যে, কিয়ামতে মানুষের আমল ওজন করা হবে-গণনা হবে না । আমলের ওজন ইখলাস তথা আন্তরিকতা ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যের কারণে বেড়ে যায়। যার আমল আন্তরিকতাপূর্ণ ও সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংখ্যায় কম হলেও তার আমলের ওজন বেশী হবে।
সুতরাং রুকু এবং সাজদার তার মধ্যে ধীরতা স্থিরতা অবলম্বন করে যথাসম্ভব দীর্ঘসময় রুকু এবং সাজদার মধ্যে কাটাবার চেষ্টা করবেন বেশি বেশি করে দোআ’ দরুদ, কোরআন মাজীদের তেলাওয়াত করবেন বিশেষ করে এই দোআ’টি পড়ার চেষ্টা করবেনاللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আননীহে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও”
‘শবে কদর’ ফারসি শব্দ, ‘শব’ বা ‘লাইল’ অর্থ রাত। আর ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা। কোরআনের ভাষায় এ রাতের নাম ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো—ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা।
বান্দার প্রতিটি আমল মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের নিকট সবসময় ফজিলতপূর্ণ হলে ও বরকতময় পবিত্র রামাদ্বান মাসে প্রত্যেকটি নেক আমলের সওয়াব ও ফজিলত অনেকগুণ বেশী, আর রমজান মাসের শ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল কদর, এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম।ইবনে মাজাহ শরিফে উল্লেখ রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘শবে কদর’ থেকে বঞ্চিত হলো; সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হলো।’
আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ আছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘লাইলাতুল কদর’ পেল কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীতে সময় কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।’পবিত্র রমজানের মাসে লাইলাতুল কদর’ কদর আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। এ রাতটিকে খুঁজে আমল-ইবাদতে কাটিয়ে সৌভাগ্যবানদের তালিকাতে নাম লেখাবো নাকি হতভাগা থেকে যাবো; সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদেরকেই।
এ রাতে পরবর্তী এক বছরের প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিযিক ইত্যাদির পরিমাণ লাওহে মাহফুজ থেকে নিদিষ্ট ফেরেশতাগনকে লিখে দেওয়া হয়।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এ কাজের দ্বায়িত্ব চার ফেরেশতাকে দেওয়া হয়, তারা হলেন- হজরত ইসরাফিল (আ.), হজরত মীকাঈল (আ.), হজরত আজরাইল (আ.) ও হজরত জিবরাইল (আ.)।
মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতে মোহাম্মাদীর জন্য ‘শবে কদর’ নামে এমন এক পুরস্কার দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর কোনো উম্মতকে দান করা হয়নি।বোখারী ও মুসলিম শরীফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সওয়াবের আশায় খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদরে কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে, তবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’
‘লাইলাতুল কদর’ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এ রজনীতে ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময় মহিমান্বিত এই শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ কোরআন কারিমে ‘সুরা কদর’ নামে একটি সুরা নাজিল করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা কদরের
১ থেকে ৫ নং আয়াতে আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি কদর (মর্যাদাপূর্ণ) রজনীতে। মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাঈল (আ.) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষার উদয় পর্যন্ত।’ (সুরা-৯৭ কদর, আয়াত: ১-৫)।
রামাদ্বানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে এই পবিত্র রজনী। নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর চিহ্নিত করা হয়নি। হাদিস শরীফে এসেছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে(২১তম, ২৩তম, ২৫তম, ২৭তম এবং ২৯তম রাত।)শবে কদর তালাশ করো।’(বুখারি, হাদিস : ২০১৭)
বোখারী শরীফের ৭০৯ নং হাদীসে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতসমুহে তা খোঁজ করবে।’
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রামাদ্বানের শেষ ১০ রাত এসে যেতো তখন রাসূল রাত জাগরিত থাকতেন, তার পরিবারের সদস্যদের কে জাগিয়ে দিতেন, তিনি অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকতেন এবং সাংসারিক পারিবারিক বা দাম্পত্য কাজকর্ম বন্ধ করে দিতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
আজ থেকে লাইলাতুল কদরের রাত। বছরের সবচেয়ে বরকতময় দশ রাত এখন উপস্থিত — যখন আল্লাহর রহমতের দরজাগুলো খুলে যায় এবং প্রতিটি সৎকর্মের প্রতিদান অসীমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই রাতগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইলাতুল কদর, এক বিশেষ রাত যেখানে একটি মাত্র দান ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের দানের সমান!
একদিন বিশ্বনবী রাসুল (সাঃ) খুতবা উপস্থাপনের জন্য মদিনায় মসজিদে নববীতে উপস্থিত হলেন। তিনি মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে বললেন— 'আমিন।' দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার পর পুনরায় বললেন— 'আমিন।' তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখে আবারও বললেন 'আমিন।'
এর পর তিনি খুতবা পেশ করলেন। খুতবা শেষে মিম্বার থেকে নেমে আসার পর সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন— 'হে আল্লাহর রাসুল! আজ আপনি মিম্বারে আরোহণ কালে কোনো দোয়া করা ছাড়াই তিনবার 'আমিন' বলেছেন । এর কারণ কী?
রাসুল (সাঃ) জবাবে বললেন— যখন আমি মিম্বারে আরোহণ করতে যাচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময়ে হযরত জিবরিল (আঃ) আমার সামনে হাজির হয়ে তিনটি দোয়া করলেন । আর আমি এই দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই 'আমিন' বলেছি।' প্রকৃত অর্থে এগুলো দোয়া ছিল না; ছিলো বদদোয়া।
অতঃপর রাসুল (সাঃ) বললেন, হযরত জিবরাইল (আ.) প্রথম বদদোয়ায় বলেছেন: 'ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যে বৃদ্ধ অবস্থায় মাতাপিতাকে পেল, অথচ সে তাদের খেদমত করে নিজের গুনাহ ক্ষমা করিয়ে জান্নাত অর্জন করতে পারল না।' হযরত জিবরিলের (আঃ) এই বদদোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি (রাসুল) বলেছি— 'আমিন।'
জিবরিল (আঃ) দ্বিতীয় বদদোয়ায় বলেছেন : ‘ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তির যে পুরো রমজান মাস পাওয়া সত্ত্বেও নিজের গুনাহ ক্ষমা করাতে সক্ষম হলো না।' হযরত জিবরিলের এই বদদোয়ার প্রেক্ষিতেও আমি বলেছি- 'আমিন'।
জিবরিল (আঃ) তৃতীয় বদদোয়ায় বলেছেন: ‘ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো, অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না।’
হযরত জিবরিলের এই তিনটি বদদোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি (রাসুল সাঃ) বলেছি- 'আমিন'।
#শবে কদরের নামাজের নিয়মাবলী;লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের নামাজ যেভাবে পড়বেন:শবে কদরের নফল নামাজ দু‘রাকাত করে যত বেশী পড়া যায় তত বেশি ছওয়াব। নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এই ভাবে কম্পক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি যত রাকাত আদায় করা যায় ততই ভালো।
কেউ যদি উপরে উল্লেখিত সূরাগুলো না পারেন তাহলে সূরা ফাতিহা পড়ার পর যে সূরাগুলো আপনি পারেন তার মধ্য থেকে প্রতি রাকাতে একটি করে সূরা মিলিয়ে নিতে হবে। এছাড়া সালাতুল তাওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। পাশাপাশি রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার অবশ্যই চেষ্টা করবেন।
শবে কদরের নামাজের নিয়ত: আরবীতে: “নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তা‘আ-লা- রাক‘আতাই ছালা-তি লাইলাতুল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা‘বাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার”।
বাংলায়: “আমি ক্বেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দু‘রাক‘আত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবার”।
লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের দোয়া:এ রাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত, এ রাত পূর্বের গুনাহ থেকে মুক্তি লাভের রাত, এ রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। অতএব এ রাতে আল্লাহর নিকট বেশি বেশি দোয়া করবেন এবং ইবাদতে মশগুল থাকবেন।
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে:-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
এ ছাড়াও আল্লাহ তাআলার ক্ষমা লাভে কুরআনুল কারিমে তিনি বান্দার জন্য অনেক দোয়া তুলে ধরেছেন। যা নামাজের সেজদা, তাশাহহুদসহ সব ইবাদত-বন্দেগিতে পড়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আর তাহলো-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ: ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’
অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)
رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’
অর্থ: ‘(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ১৬)
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’
অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’
অর্থ: হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১)
سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ
উচ্চারণ: ‘সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।’
অর্থ: ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-বাকারাহ : আয়াত ২৮৫)
رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا
উচ্চারণ: ‘ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ২৮৬)
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানা ওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করে দিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।’
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং অশেষ নেকি হাসিল এর জন্য মুমিন মুসলমানের উচিত, সেজদায় গিয়ে তাসবিহ পড়ে কিংবা শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ ও দরূদ পড়ার পর নিজেদের গোনাহ থেকে মুক্তির জন্য কুরআনে বর্ণিত এ দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া।লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের ফজিলতগুলোর সারসংক্ষেপ:- লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র কুরআন ও সহীহ-হাদীস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।
এ রাতটি হাজার মাস হতে উত্তম- কল্যাণময় (কুরআন)
এ রাতেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে। (কুরআন)
এ রাতে ফেরেস্তা নাযিল হয় এবং আবেদ বান্দাহদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
ফজর পর্যন্ত এ রাতে পুরাপুরি শান্তি ও নিরাপত্তার (কুরআন)
এ রাতে প্রত্যেকটি ব্যাপারে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও সুদৃঢ় ফায়সালা জারি করা হয়। (কুরআন)
এ রাতে ইবাদতে মশগুল বান্দাদের জন্য অবতরণকৃত ফেরেশতারা দু’আ করেন। (হাদিস)
গুনাহ মাফ : ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর নিকট হতে বড় শুভফল লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পিছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (বুখারি-মুসলিম)
এ রাতে কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগ্য লোক ছাড়া আর কেউ বঞ্চিত হয় না। (ইবনে মাজাহ-মিশকাত)আসুন আমরা সবাই বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাজা, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দোয়া-দুরুদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি মনযোগী হয়ে মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করি, বিচ্ছেদ হোক পা’পের সাথে, সম্পর্ক হোক মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামীন তথা আমাদের রবের সাথে, আমাদের সবাইকে মনে রাখা উচিৎ মানুষকে খুশি করা খুব কঠিন, কিন্তু মহাণ আল্লাহকে খুশি করা খুউব সহজ, আলহামদুলিল্লাহ,
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করি আজ ও আমাদেরকে ভালো রেখেছেন, সুস্থ রেখেছেন, আমাদের পরিচিত ও অপরিচিত অনেকেই আজ বেঁচে নেই, সবাইকে মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যেনো জান্নাতবাসী করেন, এই দোয়া সহ আমার মত সকল অসুস্থ রুগীদের সীফা দান সহ, সবার সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি অবরুদ্ধ জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ ও গাজা - ফিলিস্তিন সহ সমগ্র বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে এমন জীবন গঠন করুন, যাতে আজীবন বেঁচে থাকতে পারেন স্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সকল মানুষের অন্তরে, এবং মৃত্যুর পর ও যেনো মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে জান্নাতবাসী করেন,,আমিন, সুম্মা আমিন।
************************************************

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন