পিপলস স্পা" হচ্ছে ইউকের পাবলিক মালিকানাধীন স্পা’র মধ্যে অন্যতম : -নির্বাহী মেয়র মেয়র লুৎফুর
ওয়ালিদ বিন খালেদ ||লন্ডন ||
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় শত বছর পুরোনো ইয়র্ক হলে লন্ডনের প্রাচীনতম স্পা পুনরায় চালু করছে। কাউন্সিল ৩এপ্রিল প্রায় অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে স্পা`টিকে সংস্কার করেছে, যার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী "টার্কিশ বাথ"। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর মুনাফা ছাড়াই নতুন ব্রেন্ডের "বি ওয়েল দ্য স্পা" কাউন্সিল পরিচালিত গুটিকয়েক স্পাগুলোর মধ্যে একটি, যা লন্ডনে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য অফার করে।
নির্বাহী মেয়র মেয়র লুৎফুর রহমান এই স্পাটিকে "পিপলস স্পা" আখ্যা দিয়ে বলেন "ইউকের একমাত্র স্পাগুলির মধ্যে অন্যতম এই স্পা
টি শুধুমাত্র কাউন্সিল মালিকানাধীনই নয় বরং এটি সরাসরি একটি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত। তাই এ থেকে আয়ের অংশগুলো রেসিডেন্টদের সেবায়ই ফিরে যাবে। আর এই উদ্যোগটির মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ইতিহাস সৃষ্টি করছে।"
নতুন রূপান্তরিত স্পাটিতে ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার পাশাপাশি আরও রয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ অত্যন্ত আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবেশ, যার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী "টার্কি বাথ" বা তুর্কি স্নান। হাইড্রাফেসিয়াল এবং এলিমিস থেরাপির মতো উদ্ভাবনী হেলথ সেবা ছাড়াও এতে থাকছে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এতে আরও রয়েছে একেবারে নতুন একটি "ইনফ্রারেড সোনা"। আর এই উন্নত প্রযুক্তির বৈশিষ্টের কারণেই এটি হয়ে উঠেছে ইউকের প্রথম কাউন্সিল মালিকানাধীন স্পা
গুলোর মধ্যে একটি।
ইয়র্ক হল স্পা এবং পোরচেস্টার স্পা লন্ডনের সবচেয়ে পুরাতন স্পা এবং দুটিই ১৯২৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। টাওয়ার হ্যামলেটস লোকাল হিস্ট্রি লাইব্রেরি এবং আর্কাইভসে সংরক্ষিত ছবি থেকে দেখা যায়, ১৯২৯ সালে ঐতিহাসিক পাবলিক বাথ এবং ওয়াশহাউসটি, ইয়র্কের ডিউক এবং ডাচেস (পরবর্তী রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং রানী এলিজাবেথ) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ডের সাথে উদ্বোধন করেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আমি আনন্দিত যে লন্ডনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের স্পা হিসেবে আমরা ঐতিহাসিক ইয়র্ক হল স্পা পুনরায় চালু করছি, যাতে রয়েছে লন্ডনের শেষ অবশিষ্ট টার্কিশ বাথ (তুর্কি স্নান)৷ আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করছি কারণ ইউকের একমাত্র স্পাগুলির মধ্যে অন্যতম এই স্পা
টি শুধুমাত্র কাউন্সিল মালিকানাধীনই নয় বরং এটি সরাসরি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানির এ থেকে লাভ করার কোনও সুযোগ নেই, তাই সত্যিকার অর্থেই এটি একটি 'পিপলস স্পা' ৷ “
আমাদের লেইজার সেন্টারগুলোকে কাউন্সিলের আওতায় আনার মাধ্যমে, আমরা বিনামূল্যে সাঁতারের ব্যবস্থা সহ কম দামে আমাদের কমিউনিটির স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারছি। আমি অন্যান্য কাউন্সিলগুলোকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নেতৃত্ব অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে এই সেবাগুলো জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এর মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা যেন রেসিডেন্টদের সেবায় ব্যবহৃত হয়।
কালচার এবং রিক্রিয়েশন কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন বলেন, "টাওয়ার হ্যামলেটস এই অত্যাধুনিক স্পাসহ লেইজার সেন্টারগুলোতে বিনিয়োগ করছে এবং রেসিডেন্টরা এগুলো ব্যবহারের জন্য এর সম্প্রসারণ করছে, যেখানে পুরো ইউকে জুড়ে অনেক লেইজার সেন্টার এবং সুইমিং-পুল দুঃখজনকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । এছাড়াও স্পা
টি আরও একসেসযোগ্য করতে আমরা সরকারি চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী, আমাদের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এবং যারা বেনেফিটে আছেন তাদের জন্য ডিসকাউন্টে মেম্বারশিপ প্রদান করছি।" উদ্বোধনীতে মেয়র, ক্যাবিনেট মেম্বার ও কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার ও স্পা ম্যানেজার সিমন অংশ নেন।
“একই সাথে নতুন নতুন স্কিম চালু করা হয়েছে।যেমন ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল মহিলা এবং মেয়ে ও ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল পুরুষদের জন্য বিনামূল্যে সাঁতারের ব্যবস্থা। প্রবেশ করতে পারবেন বরোর ছয়টি সক্রিয় সাতটি সেন্টারে। একটি এক্সক্লুসিভ স্পা মেম্বারশিপ
ও পাওয়া যাবে, যার মাধ্যমে আপনি `বিনামূল্যে গেস্ট পাস, বিভিন্ন ট্রিটমেন্টে ডিসকাউন্ট অফার এবং আনলিমিটেড থার্মাল স্পা অ্যাক্সেস উপভোগ করতে পারবেন।”
মাত্র ৩২ পাউন্ড ৫০পেন্সে, মেম্বারশিপহীন গেস্টরা থার্মাল স্পা অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে তিনটি হট রুম, দুটি সুগন্ধি স্টিম রুম, একটি ঐতিহ্যবাহী সোনা, ইনফ্রারেড সোনা, আইস ফাউন্টেন, মনসুন ফাউন্টেন, প্লাঞ্জ পুল, হাম্মাম এবং একটি রিলাক্সেশন লাউঞ্জ। ৩০ পাউন্ডে পাওয়া যাবে থেরাগুন মাসল রিলিফ, স্ট্রেস রিলিফ ম্যাসাজ, প্যারাফিন থেরাপি, কফি ফুল-বডি স্ক্রাব সেবা, ৩৫ পাউন্ডে পাওয়া যাবে ডেড সি মিনারেল মাড কোকুন সেবা, আর ৪৫ পাউন্ডে পাওয়া যাবে এলিমিস প্রো-রেডিয়েন্স ফেসিয়াল। ২০২৪ সালের মে মাসে GLL এর সাথে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চুক্তি শেষ হওয়ার পর, ইয়র্ক হল সহ বরো
র সাতটি লেইজার সেন্টারকে কাউন্সিলের আওতায় আনার পরে স্পা`টি সংস্কারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন