যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কর্মকর্তারা শনিবার (৫ এপ্রিল) থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফাভাবে আরোপিত নতুন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সংগ্রহ শুরু করেছেন। মার্কিন সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও শুল্ক গুদামে এই বেসলাইন বা ন্যূনতম শুল্ক কার্যকর হয় স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস নামে; কেবল এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে দুদিনেই হারিয়ে যায় পাঁচ ট্রিলিয়ন (পাঁচ লাখ কোটি) মার্কিন ডলার। কমে যায় জ্বালানি ও পণ্যমূল্য, বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সরকারি বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, মিশর ও সৌদি আরব। তবে যেসব পণ্য শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটের আগে প্লেন বা জাহাজে করে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওয়ানা দিয়েছে, তাদের জন্য ৫১ দিনের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ রাখা হয়েছে। এসব পণ্যকে ২৭ মে’র মধ্যে পৌঁছাতে হবে, তা না হলে নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে।
দ্বিতীয় ধাপে চড়া শুল্ক
পরবর্তী ধাপে আগামী বুধবার (৯ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে আরও উচ্চমাত্রার শুল্কগুলো—১১ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এই ধাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ এবং চীনা পণ্যে ৩৪ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে চীনের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫৪ শতাংশ।
ভিয়েতনামের পণ্যে পড়বে ৪৬ শতাংশ শুল্ক। তবে দেশটি গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে।
ছাড় পেলো কারা?
কানাডা ও মেক্সিকো ট্রাম্পের এই নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকছে, কারণ তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির অধীনে ‘ফেন্টানাইল সংকট’ সংক্রান্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখছে।
জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক যেসব পণ্যের ওপর রয়েছে—যেমন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও যানবাহনের যন্ত্রাংশ—সেগুলো নতুন শুল্ক থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন আরও জানায়, ২০২৪ সালে মোট ৬৪৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানিকৃত এক হাজারের বেশি পণ্যে ছাড় দেওয়া হবে। এই তালিকায় রয়েছে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি, ওষুধ, ইউরেনিয়াম, টাইটানিয়াম, কাঠ, সেমিকন্ডাক্টর ও তামা। তবে জ্বালানির বাইরে বেশ কয়েকটি খাতেই ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন