মৌলভীবাজার প্রতিনিধি //
মিথ্যা মামলায় তিনদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক মেয়র ও ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক মো. মহসিন মিয়া মধু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার স্পেশাল আদালতে জামিন চাইলে বিচারক তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপি নেতা মো. মহসিন মিয়া মধু বলেন, গত ৫ আগস্টের পরে আমি যেভাবে আপনাদের পাশে ছিলাম। এখনো ঠিক সেভাবে আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। যেখানেই কোন অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হবে আপনারা আমাকে অবগত করবেন। আমি সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের হয়ে কাজ করে যাবো- ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আমার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে নম্বরে যে কেউ যেকোনো সমস্যা হলে আপনারা আমাকে যেকোনো সময় কল দিলে ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের পাশে চলে আসবো।’
উল্লেখ্য যে, গত ৩০ মার্চ শ্রীমঙ্গল গদারবাজারে ‘বিনা লাভের বাজার’ নামে দোকানের সামনে ব্যাটারিচালিত টমটম রিক্সা রাখাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আনার মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। পরে প্রতিপক্ষ উত্তেজিত হওয়ায় সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাসায় চলে যান। একপর্যায়ে আনার মিয়া তার নিজ এলাকা পশ্চিমভাড়া গ্রামে মসজিদে মাইকিং করে ৫০০-৬০০ লোকজন জড়ো করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ দোকান ভাঙচুর ও মেয়রের বাসা বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় পথচারী ঈদের কেনাকাটা করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ৫৬ রাউন্ড শিষা কার্তুজ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় শহরে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন বিভিন্ন মার্কেটে আটকা পড়েন। রাত আড়াইটার পর মৌলভীবাজার থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রীমঙ্গল এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে দোকানপাটে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফেরেন। রাত চারটার দিকে সেনাবাহিনী মহসিন মিয়ার বাসভবন থেকে মহসিন মিয়া মধু তাঁর ছেলে মুরাদ হোসেন সুমন, ভাই সেলিম মিয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলকাছ মিয়াসহ ১৩ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। পাশাপাশি পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম থেকে সাবেক ইউপি সদস্য আনার মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম হৃদয়কে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাইভেট কার ভাঙচুরের অভিযোগ এনে আকলিমা নামে এক নারী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় মহসিন মিয়ার সাথে আটক ১৩জনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।
অন্যদিকে পুলিশের এসআই অলক বিহারী গুণ বাদী হয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও মারপিট, সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান করায় সাবেক ইউপি সদস্য আনার মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম হৃদয় ও আনার মিয়াকে আসামী করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ২৮০-২৮৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রজু হয়। এই মামলার প্রধান আসামী সেনাবাহিনীর হাতে আটক আনার মিয়ার পুত্র কামরুল ইসলাম হৃদয়কে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন